চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা কাটাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। দ্রুত নিয়মিত ক্লাস শুরু করতে শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে টানা শাটডাউনে হারানো ক্লাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একাডেমিক রিকভারি প্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে যোগদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় উপাচার্য জানান, 'শিক্ষার্থীদের দাবি শুনে যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের দপ্তরের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান তিনি।'
তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, যখন একটা সমস্যা তৈরি হয়, সেখানে আস্থার সংকট থাকে। আর এটা সমাধানের সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে আলাপ-আলোচনা। আমি যদি সবার সঙ্গে আলোচনা করি এবং আমাদের সবার উদ্দেশ্য থাকে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া, তাহলে আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।'
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ক্লাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, '২০২৪ ও ২০২৫ ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস শুরুর বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'আমি তো ক্লাস পড়াতেই চাই এবং অনেক শিক্ষকও ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত ক্লাসে ফিরতে পারে, সে জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে পরামর্শ করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্লাস শুরুর সূচি জানিয়ে দেব।'
উপাচার্য জানান, টানা শাটডাউনে প্রায় তিন সপ্তাহের ক্লাস ব্যাহত হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সেমিস্টারের টার্ম ব্রেক কমানো কিংবা পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশের মতো বিকল্প নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের আস্থায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, 'আন্দোলনকারীরা তারই ছোট ভাইয়ের মতো। শিক্ষক হিসেবে তাদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বোঝানো তার দায়িত্ব।'
শিক্ষার্থীরা তার ওপর আস্থা রাখতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
ক্যাম্পাসে যোগদানে বিলম্বের বিষয়ে উপাচার্য জানান, ২২ সেপ্টেম্বরের পর আন্দোলন কর্মসূচি শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরামর্শ করেছেন তিনি। আলোচনার অগ্রগতির পর ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শেখ শরীফুল আলম বলেন, 'সায়েম একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তার সহযোগিতা প্রয়োজন।'
তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার কক্ষে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন চলছে। এতে টানা ২১ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।