বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানোর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, হুমকিদাতা বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশ যে নাম বলেছে সেই নামে তাদের কোনো শিক্ষার্থী নেই। অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, তদন্তে হুমকিদাতার পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ না করেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। সেখান থেকেই ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি দেন। তবে ইমেইলে নিজের নাম ‘মুশফিক রাজিন’ উল্লেখ করলেও এটি তার প্রকৃত নাম নয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হুমকিদাতার অবস্থান ও ইমেইলের সূত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত একটি বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারাও তার পরিচয় শনাক্তে গোয়েন্দাদের সহযোগিতা করেন। এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো দূতাবাস বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ইমেইলে ব্যবহৃত নাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুশফিক রাজিন নামে আমাদের কোনো বর্তমান কিংবা সাবেক শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। কে এই কাজ করেছে, তা আসলে বলা যাচ্ছে না। সম্ভবত ভিপিএন ব্যবহার করে এটি করা হয়েছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশকে জানিয়েছিলাম। তারা বলেছে, তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে ইমেইলটি কোথা থেকে এসেছে, তারা তা শনাক্তের চেষ্টা করছে।’
পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নামে কোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন কি না, তা পুলিশ জানতে চেয়েছিল। তবে অভিযুক্তের অবস্থান বা বিভাগ সম্পর্কে পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কাজ চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রেকর্ডের বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের জানতে চাওয়া নামে কোনো শিক্ষার্থী নেই। এ পর্যন্ত যারা পাস করেছেন, তাদের কারও নামের সঙ্গেও এটি মেলে না।’
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, রেজিস্ট্রার ও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন দাপ্তরিক ইমেইল ঠিকানায় বোমা হামলার হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। ‘টাইপিক্যাল চায়নিজম্যান’ ([email protected]) নামের একটি জিমেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো বার্তায় প্রেরক নিজের নাম ‘মুশফিক রাজিন’ বলে উল্লেখ করেন। ইমেইলে বলা হয়, ৬ অক্টোবর বেলা আনুমানিক ১১টায় রাজধানীর প্রগতি সরণিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাধিক বোমা হামলা ও গণবিস্ফোরণ ঘটানো হবে। হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে না বলেও বার্তায় হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৪ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক ইমেইল ঠিকানায় হুমকির বার্তাগুলো দেখতে পান।
এজাহারে আরও বলা হয়, হুমকির বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দায়ের করায় কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও উল্লেখ করেন বাদী।
হুমকির ইমেইল পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক বার্তা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চায়। ঘটনার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে কাজ শুরু করে।
