৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে হেমন্তের আগমনী আবহে চমৎকার কিছু দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ মিলবে। এ সময়ে বৃষ্টি ও মেঘের আনাগোনা কমে আকাশ সাধারণত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ থাকে। স্বচ্ছ আকাশে তারা, গ্রহ এবং উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি
অক্টোবরের শেষ পাক্ষিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা থেকে সৃষ্টি হয় এই উল্কাবৃষ্টি। ২১ থেকে ২২ অক্টোবরের গভীর রাতে এই উল্কাবৃষ্টি তার শিখরে পৌঁছাবে। আকাশে একটু চোখ রাখলেই দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি। আগামী ২১ থেকে ২২ অক্টোবরের দিকে চাঁদ তার বর্ধনশীল দশা বা ফার্স্ট কোয়ার্টার পার করবে। সন্ধ্যার পর চাঁদের আলো থাকলেও মাঝরাতের আগেই তা অস্ত যাবে। ফলে গভীর রাত থেকে ভোরের আলো ফোটার পূর্ব পর্যন্ত আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার থাকবে। এতে উল্কা দেখার আদর্শ সুযোগ তৈরি হবে। অন্ধকার ও পরিষ্কার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০টি স্পষ্ট উল্কা ছুটে যাওয়া দেখা যাবে।
শনি গ্রহের উপস্থিতি
সেপ্টেম্বরের অপোজিশন বা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান নেওয়ার পর, অক্টোবরের শেষভাগেও শনি গ্রহ সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বলভাবে বিরাজ করবে। সূর্যাস্তের পরপর দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে শনিকে সহজে চিহ্নিত করা যাবে। এটি রাতের প্রথমভাগে মাথার ওপরের দিকে অবস্থান নেবে এবং মধ্যরাতের পর পশ্চিমের আকাশে ঢলে পড়বে। শনি স্থির ও ঈষৎ হলুদ-সোনালি আভায় জ্বলবে। একটি বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে এর মনোমুগ্ধকর বলয় এবং বড় উপগ্রহ টাইটান স্পষ্ট দেখা যাবে।
সন্ধ্যার আকাশে শুক্র
অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহে সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পশ্চিম আকাশে ঝলমলে আলো নিয়ে উদিত হবে শুক্র গ্রহ। গোধূলির আলো মেলাতেই পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম দিগন্তে সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু হিসেবে এটি চোখে পড়বে। সূর্যাস্তের পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত শুক্র গ্রহ দিগন্তের কিছুটা ওপরে অবস্থান করবে। খালি চোখেই শুক্র দেখা যাবে। আর বৃহস্পতি প্রধানত গভীর রাতের জ্যোতিষ্ক। তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই পূর্ব দিগন্তে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে শুরু করবে।
চন্দ্রকলা ও চাঁদের সংযোগ
অক্টোবরের শেষ পাক্ষিকে চাঁদ ধাপে ধাপে পূর্ণ অবয়বের দিকে এগিয়ে যাবে। ২৫ ও ২৬ অক্টোবরের রাতে আকাশে উঠবে বছরের হান্টার্স মুন বা শিকারি পূর্ণিমা। এই রাতে চাঁদের তীব্র সোনালি-সাদা আলোয় পুরো আকাশ আলোকিত থাকবে। পূর্ণিমার ঠিক আগে ২৪ অক্টোবরের দিকে চাঁদ ও শনি গ্রহকে রাতের আকাশে একে অপরের বেশ কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা যাবে।
হেমন্তের নক্ষত্রমণ্ডল
অক্টোবরের শেষভাগে সন্ধ্যার আকাশে হেমন্তের বিখ্যাত নক্ষত্রমণ্ডল প্রস্ফুটিত হয়। ১৮ থেকে ২০ অক্টোবরের দিকে চাঁদ ওঠার আগে বা অস্ত যাওয়ার পর আলোমুক্ত পরিবেশ থেকে দুরবিন দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে আবছা আলোর মেঘের মতো প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। সন্ধ্যার পর পূর্ব-উত্তরপূর্ব আকাশে কাল্পনিক ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতি পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের চারকোনা বিন্যাস স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া উত্তর আকাশে ইংরেজি ডব্লিউ অক্ষরের আকৃতি ধারণ করে উজ্জ্বলভাবে দেখা দেবে ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডল।
সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম, সাইটেক