মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। কাঁধে চোট লাগে তার। চোটের অবস্থা জানতে এমআরআই করতে বলেন চিকিৎসক। কিন্তু সেই এমআরআই যে তার জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ে আসবে তা কল্পনাও করেননি রামহর লোহার। বাস্তবে তাই হলো।
গত রবিবার ভারতের হরিয়ানার পঞ্চকুলায় এ ঘটনা ঘটে। পঞ্চকুলার সিভিল হাসপাতালে রামহর লোহার (৫৯) এমআরআই করাতে গিয়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, রামহর লোহার সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে কাঁধে আঘাত পান। চিকিৎসক ললিত কৌশল কাঁধের এমআরআই করাতে বলেন। এ জন্য রবিবার বিকেলে পঞ্চকুলার সিভিল হাসপাতালে যান এমআরআই করানোর জন্য।
রামহরের দাবি, এমআরআই করানোর সময় টেকনিশিয়ান তাকে বলেন, ১০ থেকে ১৫ মিনিট এমআরআই মেশিনের মধ্যে থাকতে হবে। তাই তাকে এমআরআই মেশিনে শুইয়ে বেল্ট দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়, যাতে নড়াচড়া না করতে পারেন।
রামহরের দাবি, ১৫ মিনিট তো দূরের কথা, ৩০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও তাকে বের করা হয়নি মেশিন থেকে। এ সময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। এমনকি মেশিনের মধ্যে তাপও বাড়তে থাকে। তিনি কাঁদতে শুরু করেন। কিন্তু কেউ তার সাহায্যের তখন এগিয়ে আসেনি। কারণ এমআরআই মেশিনের রুমে তখন কেউ ছিলেন না।
এই অবস্থায় রামহর লোহার অনুধাবন করেন, মেশিন থেকে বেরুতে না পারলে তিনি মারা যেতে পারেন। তাই তিনি নিজেই মেশিন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। বেল্ট ছিঁড়ে বেরুনোর চেষ্টা করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এমআরআই মেশিন থেকে বের হতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হচ্ছে। সোমবারের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। তারপরই সিদ্ধান্ত হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ