চীনের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হংকং। হংকংয়ে পুলিশ ও গণতন্ত্রপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে মঙ্গলবার পুরো দিন জুড়ে। গণতন্ত্রপন্থীরা এ দিনটিকে দেখছেন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে। অপরদিকে চীন চাচ্ছে গণতন্ত্রের এই লড়াই নস্যাৎ করে দিয়ে বিশ্বে নিজের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির প্রমাণ জাহির করতে।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেছে। গণতন্ত্রপন্থীরা এদিন সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ভবন, আইনসভাসহ নতুন আরেকটি শহর শা-তিনে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছে। সবগুলো রাস্তায় তারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বেশ কিছু পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে স্থানগুলোতে।
শপিং মল, দোকানপাট, যানবাহনসহ গুরত্ত্বপূর্ণ ভবনগুলোতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কালো-মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা। জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও গুলি ছুঁড়ে পুলিশও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে। গণতন্ত্রপন্থীরা দাবি করছে, পুলিশ এদিন তাদের অসংখ্য লোককে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন : দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
লি নামের চল্লিশোর্ধ্ব একজন বিক্ষোভকারী গণতন্ত্রপন্থীদের প্রতি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তার উদ্বাত্ত আহ্বান জানান। লি বলেন,'আমার বয়স অনেক হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা যদি এখন লড়াই না করি তবে আমরা আর আমাদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তোলার সুযোগ পাবো না।'
এদিকে চীন সরকার হংকংয়ের এই বিক্ষোভকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এর প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। হংকংয়ের শত শত সরকারি কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী অভিজাত শ্রেণির মানুষ দিনের শুরুতে কার্যালয়গুলোতে চীনের পতাকা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। হংকং শহরের মূল কেন্দ্রের রাস্তাগুলো এদিন বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সড়কগুলোতে।
হংকং সরকারের চিফ এক্সিকিউটিভ ম্যথু শিউয়েং দাবি করেন, ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ কলোনি থেকে মুক্ত হবার পর চীনের অধীনে ‘এক দেশ, দুই নীতি' থেকে হংকং অর্থনৈতিকভাবে অনেক উপকৃত হয়েছে। গণতন্ত্রপন্থীরা চরমপন্থায় গিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং হংকংয়ের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।’
উল্লেখ্য, পূর্ণ গণতন্ত্রের দাবিতে গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভে তিনমাস ধরে হংকং প্রায় অচল হয়ে আছে। শহরের রেলপথগুলো সব বন্ধ হয়ে আছে। এই তিন মাসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করেছে পুলিশ। ছাড় পাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধরাও। অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক চীনের অধীনে থাকার সিদ্ধান্তে অটল ক্যারি ল্যাম শাসিত হংকং সরকার। ক্যারি ল্যাম বর্তমানে চীনের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে চীনে অবস্থান করছেন। গণতন্ত্রপন্থীদের দমনে পূর্ণ শক্তি খাটাতেও প্রস্তুত তার সরকার। সূত্র : রয়টার্স
ইত্তেফাক/মিশু/কেআই