ঢাকা বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
২৮ °সে

ফোনে পাসওয়ার্ডের যোগ বিয়োগ, টাকা উধাও

বিকাশকর্মীর নামে প্রতারণা
ফোনে পাসওয়ার্ডের যোগ বিয়োগ, টাকা উধাও
ছবি: সংগৃহীত

বনানীর ফেয়ার ইলেকট্রনিকস লিমিটেডে চাকরি করেন খায়রুল হোসেন বিপ্লব। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২২ ডিসেম্বর (২০১৯) তিনি ব্যস্ত ছিলেন নিজ কাজে। বেলা ১টা ৪৩ মিনিট থেকে একটা ৫৯। এই সময়ে একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন থেকে কল আসে।

তিনি রিসিভ করলে অপর প্রাপ্ত থেকে পুরুষ কণ্ঠের একজন বলেন, ‘স্যার, আমি বিকাশের ব্র্যাক ব্যাংক শাখা থেকে কল করেছি, আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা আছে। বিকাশ অ্যাকাউন্টটি চালু করে দিলে আপনি আবার ক্যাশআউট করতে পারবেন।’ এরপর বিভিন্ন কথাবার্তার ছলে বিপ্লবের মোবাইল ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ডের যোগ-বিয়োগ করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ হাজার টাকা উঠিয়ে নেয়।

আনুমানিক ১০ মিনিট পর বিপ্লব বিকাশের হেলপ লাইন নম্বরে কথা বলে বিষয়টি জানান। তখন সেখান থেকে জানানো হয়, হ্যাঁ বেলা ০১:৫৯ মিনিটে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ হাজার ১১৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তখন বিপ্লবের আর বুঝতে বাকি থাকে না যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে খায়রুল হোসেন বিপ্লব পরদিন ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরবর্তী সময়ে খায়রুল হোসেন বিপ্লব বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগে জানান। বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপের দপ্তরে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে সিটিটিসির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ বলেন, বিপ্লবের ঘটনাটি শুনে একটি ফর্মালিটি মেনটেইন করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঐ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয় এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার খায়রুল হোসেন বিপ্লব এসেছিলেন সেই টাকা নেওয়ার জন্য। টাকাটা হাতে পেয়ে তিনি কিছুক্ষণের জন্য আনন্দে নীরব হয়ে যান।

এ সময় বিপ্লব বলেন, আমি জিডি করেছিলাম সত্যি, কিন্তু ভেবেছিলাম এই ১১ হাজার টাকা হয়তো তেমন কিছু না। কিন্তু আমার মতো বোকা বনে কেউ যেন না যান। এজন্য আমি বিষয়টি এসি পলাশ স্যারকে জানিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম টাকা হয়তো আমি পাব না। কিন্তু আজ যখন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড বিভাগের এসআই জিয়াউল আমাকে ফোনে টাকা উদ্ধারের কথা বলে তা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন, আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না এটা কীভাবে সম্ভব!

অপরদিকে খায়রুল হোসেন বিপ্লব গতকাল বৃহস্পতিবার তার ১১ হাজার টাকা ফেরত পেয়ে পুলিশ সম্পর্কে তার ধারণাটাই পালটে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য রইল দোয়া ও শুভকামনা। তাই সচেতন হোন, যেকোনো তথ্য প্রদানে একটু ভেবেচিন্তে প্রদান করুন আর নিরাপদ থাকুন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন