আর মাত্র দুই দিন পর (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার আগামীকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে।
তাই শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে রাজধানী শহরে। প্রচারণার শেষদিকে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নেমে পড়েছেন ভোটারদের মন জয়ে। নানা প্রতিশ্রুতি আর কথামালায় ভোটারের মন জয় করে প্রত্যেক প্রার্থীই চাচ্ছেন ভোটের মাঠে জয়ী হতে। ইতিমধ্যে দুই সিটিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ফলে নির্বাচনি আমেজ সৃষ্টি হলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভোটাররা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও অনেক জায়গায় ইসির কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এদিকে প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে ইসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জরুরিভিত্তিতে এসব প্রচারসামগ্রী অপসারণে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দুটি বড়ো দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেন, মারামারি হওয়া খারাপ। আমাদের তাত্ক্ষণিক করার কিছু নেই। এটা হলে মামলা হবে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাতে বড়ো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে এমন নয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে দুটি অতর্কিত ঘটনা ঘটে। ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে না জানিয়ে ঐ পথসভা হয়েছিল। এটা নিয়ে দুই দলের সঙ্গে কমিশনের কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না করার জন্য বলা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারকেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন : কাল মধ্যরাত থেকে ঢাকায় বিশেষ অভিযান
দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ১৩ জন। উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১৮টি পদে ৭৭ জন ভোটের মাঠে আছেন। দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩৩৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন। এরপর থেকে ঘুম হারাম করে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের দোরগোড়ায় ছুটছেন। তীব্র শীতেও থেমে নেই প্রার্থীদের প্রচার। দলীয়ভাবে শুধু মেয়র পদে নির্বাচন হলেও প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কাউন্সিলর পদেও দলীয় মনোনয়ন দিয়ে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ‘ভাটা’ পড়া রাজনীতিতে কিছুটা জোয়ার এসেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার কাজ বন্ধ করতে হবে। ভোটগ্রহণ শুরু পহেলা ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায়। এক্ষেত্রে প্রচার বন্ধ করতে হবে ৩০ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টায়। বিধি অনুযায়ী ‘কোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে উক্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহবান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করা এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংগঠিত বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। উক্ত সময়ে কোনো আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্ব পালনরত কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। উল্লেখিত আইন ভঙ্গ করলে তিনি ন্যূনতম ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে দুই সিটি: নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। কাল থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হচ্ছে নিরাপত্তা চৌকি। ভোটারদের নিরাপত্তা আর ভোটদান নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার মিলে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক সদস্য নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন। নির্বাচনি অপরাধ দমন ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাঠে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা।
ইত্তেফাক/এসি

