জেলে বন্ধুত্ব, বেরিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই!

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৭

মোহাম্মদ বারেক। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার মহেশখালী। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বাসিন্দা আবুল কাশেম ওরফে জীবন। স্বপন আকন্দের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর উত্তর ভাদুরা। তিন জনের বাড়ি তিন জেলায় হলেও বন্ধুত্ব জেলখানায়। তাও একযুগ আগে। বন্ধুত্বের আগে তারা যার যার মতো করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই করত। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। জেলে গেছে। জামিনে বেরিয়েছে। আবার জড়িয়েছে ছিনতাইয়ে। ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিও খেয়েছে। পরবর্তী সময়ে তারা ছিনতাই ছেড়ে নিজেরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মহড়া দিয়েছে। কয়েক দফা মহড়া শেষে তারা একই পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছে বারেক, কাশেম ও স্বপন। ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাদের। গতকাল তাদের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় একটি দেশীয় পিস্তল, পিস্তলের এক রাউন্ড কার্তুজ ও ডিবি লেখা একটি জ্যাকেট ও একটি বেতারযন্ত্র (ওয়্যারলেস সেট)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আ. আহাদ।


 
এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দলনেতা মোহাম্মদ বারেক। তার রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বিশেষ করে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই-ডাকাতি করে আসছিল। এদের মূল টার্গেট ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী অথবা মানিচেঞ্জ দোকানি। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, এ চক্রের কোনো সদস্য ব্যাংকের সামনে অথবা ব্যাংকের ভেতরে গিয়ে দেখে কারা বেশি পরিমাণ টাকা তুলছে। এরপর তার অপর সহযোগীদের তা জানিয়ে যায়। এরপর টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তি ব্যাংক থেকে বের হবার পরই তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পরে সুবিধাজনক স্থানে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঐ ব্যক্তিকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় তারা। এরপর টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়ে শহরের বাইরে কোনো সড়কের পাশে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি রিকশাযোগে যাওয়ার সময় গ্রেফতারকৃতরা তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে টাকা কেড়ে নেয়।

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবির (ডেমরার জোনাল টিম) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আজহারুল ইসলাম মুুকুল বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথম দুইটি মামলা হয়েছে। এছাড়া গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত বারেকের বিরুদ্ধে আটটি, কাশেমের বিরুদ্ধে সাত ও স্বপনের বিরুদ্ধে ৯টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এসি