আসামিরা জামিনে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

কেরানীগঞ্জে শিশু পরাগ অপহরণ
আসামিরা জামিনে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
আসামিরা জামিনে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

কেরানীগঞ্জের বহুল আলোচিত শিশু পরাগ মণ্ডল যখন অপহূত হয়েছিল তখন সে ছিল প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আট বছর পর সে এখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। অথচ এ দীর্ঘ সময়েও শেষ হয়নি বিচারকার্য। মামলার আসামিরা পর্যায়ক্রমে সবাই জামিনে। এখনো মণ্ডল পরিবার থেকে আতঙ্ক কাটেনি। পুলিশ পাহারায় কাটছে পরাগের জীবন।

২০১২ সালের ১১ নভেম্বর সকালে মা ও বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাড্যা পশ্চিমপাড়া কালীবাড়ি এলাকার বাসার সামনে থেকে মানুষরূপী দানবরা মুক্তিপণের দাবিতে পরাগকে অপহরণ করে। সে সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয় তার বোন পিনাকী মণ্ডল, মা লিপি মণ্ডল ও প্রাইভেট কার চালক নজরুল ইসলাম। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে পরাগ পরিচিতি পায় দেশবাসীর কাছে। সে হয়ে ওঠে প্রতি ঘরের আপনজন। মণ্ডল পরিবারের কষ্টের অংশীদার হয় দেশের ছোট-বড় সবাই। কাটে শ্বাসরুদ্ধকর ৬৫ ঘণ্টা। ঘটনার দুই দিন পর ১৩ নভেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আঁটিপাড়া বাজার এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগকে উদ্ধার করা হয়। তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। ১০ দিন পর মায়ের কোলে ফেরে পরাগ। পরিবারের সঙ্গে দেশবাসীও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘দুর্যোগ সহনীয় ঘর’ পেল জুড়ীর ২৪ পরিবার

পরাগ মণ্ডলের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম প্রধান হোতা সন্ত্রাসী মুক্তার হোসেন আমীরসহ ১২ জনকে আসামি করে ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিরা হলেন—আলামিন, জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী রিফাত, কালাচান, মামুন মিয়া, বিউটি আক্তার, শাকিল ও আবুল কাশেম, আকাশ, সুলতান ও ওয়াসিম। এদের মধ্যে সুলতান ও ওয়াসিম পলাতক।

সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি মুক্তার হোসেন আমির আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মুক্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এছাড়াও আকাশ অপর এক ঘটনায় একইভাবে নিহত হয়। তবে মামলার অপর আসামিরা জামিনে রয়েছে।

এ ব্যাপারে পরাগ মণ্ডলের বাবা ঢাকার তাঁতিবাজারের জে কে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিমল মণ্ডল বলেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে শুনানি বন্ধ হয়ে যায়। শুনেছি আগামী জানুয়ারিতে মামলার তারিখ পড়েছে।

বিচার বিলম্বিত হওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, আসামিরা জামিনে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে তার পরিবার। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরাগের নিরাপত্তায় পুলিশের দুই সদস্য দেখভাল করে আসছেন।

ইত্তেফাক/এএএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত