অস্ত্রসহ ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার

সন্ধ্যা নামলেই ভয়ংকর হয়ে উঠে ওরা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪৬

দিনের আলোয় নাম মাত্র পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানাবিধ অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল একটি চক্র। ওই চক্রের সদস্যরা রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় ১৫/২০ জনের সদস্য ভিন্ন ভিন্নভাবে কৌশল অবলম্বন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করে আসছিল। 

রবিবার ভোর পাঁচটায় র‌্যাব-১ এর ঢাকার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।  

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলো- মো. রনি, মো. শাহীন, আপেল মণ্ডল, মো. সফিক রহমান ওরফে রাসেল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম ওরফে রফিক। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, দুটি ম্যাগাজিন, চারটি শাবল, একটি কাটার, একটি চাকু, চারটি মোবাইল ফোন, চারটি গরু ও একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। 

আরো পড়ুন : ব্যবসা করতে হলে রাজস্ব দিতে হবে গুগল-ফেসবুক -ইউটিউবকে

র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মোর্শেদুল হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এই দলটির স্থায়ী সদস্য ১৫ থেকে ২০ জন।  মো. রনি এই ডাকাত দলের মূল হোতা।  সে এই ডাকাত দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করত। এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গরুর হাটের পাইকার এবং ক্রেতাদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতো। তাদের দলের ৪ থেকে ৫ জন গরুর হাটের মধ্যে অবস্থান করে টার্গেট নির্ধারণ করে এবং মূল দলটি সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। পরে পাইকাররা গরু ক্রয় করে অথবা হাট থেকে বের হয়ে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের টার্গেট করে পিছনে পিছনে আসতে থাকে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মূল দলকে ডাকাতির টার্গেট বুঝিয়ে দেয়। একপর্যায়ে গরুর পাইকার বা ক্রেতাকে পেছন থেকে অথবা কখনও সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে গতিরোধ করে ভিকটিমের চোখমুখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্যাতন করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।  

এছাড়া এই চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকারে ও মাইক্রোবাসে করে স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধরণের দোকানে ডাকাতি করে আসছিল। ৮ থেকে ১০ জনের এই চক্রটি সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঘুরাঘুরি করে এলাকায় ভয়ভীতি দেখাতো। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নাইটগার্ডকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের এখানে কাজ আছে বলে তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ডাকাতি করে আসছিল।  

 

ইত্তেফাক/ইউবি