সালাম দিতে দেরি হওয়ায় ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ০৪:৫৫

২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। রাত তখন সাড়ে ৮টা। নিহত এরশাদ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার তুরাগ হাইজিংয়ের চায়ের কাইয়ুম খাঁ চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে হাজির হয় এলাকার ‘বড় ভাই ’ জসিম উদ্দিন। কিন্তু সালাম দিতে দেরি হওয়ায় এরশাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় জসিম। শুরু হয় বাদানুবাদ। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ অবস্থায় চায়ের দোকানদার কাইয়ুম খানের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। 

কিন্তু জসিম উদ্দিন এতে খুশি হতে পারেনি। সে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ঐ দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে এরশাদ ও তার বন্ধু রুবেল মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান সংলগ্ন বেড়িবাঁধ বুড়িগঙ্গা পেট্রোল পাম্পের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জসিম তার সহযোগী আরিফ, জুয়েল, মোস্তাকিম, শরীফ-১, শরীফ-২, স্বপন, বিজয় ওরফে রাশেদ, শাহীনসহ অজ্ঞাতনামা চার/পাঁচ জন এরশাদকে হঠাৎ  মারধর ও এলোপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে।

তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে তার বন্ধু রুবেল। হামলাকারীরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে। তাদের চিৎকারে লোকজন ছুটে এলে জসিম তার সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন দুই জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে এরশাদকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরশাদের মা মোছা. লাইলী বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পরে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার ন্যস্ত হয় পিবিআইর কাছে।

এ ব্যাপারে পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কাছে ন্যস্ত হওয়ার পর তদন্তকারী টিম মামলার আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার প্রায় আড়াই বছর পলাতক থাকার পর মামলার প্রধান আসামি জসিম ও তার সহযোগী কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জসিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছে। অপর আসামি কবিরকে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা-পুলিশ পরিদর্শক সহিদুল ইসলাম বলেন, জসিম পেশায় রিকশাচালক। নিহত এরশাদও রিকশাচালক ছিলেন। সালাম দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যা সংঘটিত হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, জসিমের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হবিগঞ্জ থানার পাতানাশি। ঘটনার পর থেকে সে মোহাম্মদপুর এলাকা ছেড়ে বাড্ডা এলাকার সাঁতারকুল এলাকায় আত্মগোপন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে গ্রেফতারকৃত কবিরের গ্রামের পিরোজপুর জেলার সদর থানার চল্লিশারহাট। বর্তমানে তার বাসা আদাবর এলাকায়। তিনি বলেন, মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/এমএএম