ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৫ °সে


মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বইয়ে আগ্রহ কিশোর তরুণদের

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বইয়ে আগ্রহ কিশোর তরুণদের
ফাইল ছবি

উপন্যাস, গল্প আর কবিতা— বইমেলায় সবসময় এসব বই বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে বদল ঘটছে মানুষের পছন্দের। বিষয়ভিত্তিক বইয়ের প্রতি ঝুঁকছে পাঠক। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই এবং বঙ্গবন্ধুর লেখা দুটি বইয়ের কদরও অনেক।

বিভিন্ন স্টলে কথা বলে জানা গেল কিশোর তরুণদের মাঝে এখন বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের চাহিদা। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড — ইউপিএল এর বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানালেন তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের নাম ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। এরপরেই রয়েছে ‘মূলধারা’৭১’। বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন থেকে জানানো হয়, তাদের বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন অভিধান। এরপরই রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’।

অবসর প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে এ কে এম শাহনাওয়াজের লেখা ‘কিশোরদের বঙ্গবন্ধু’। এ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আলমগীর রহমান জানান, কিশোর-তরুণরা বঙ্গবন্ধুকে জানতে চায়। সেই আগ্রহ থেকে বইটি তাদের নজর কেড়েছে। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই প্রকাশিত হয়েছে ২৭টি।

প্রকাশকরা জানালেন সবচেয়ে আশাপ্রদ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থের সবচেয়ে বড় ক্রেতা তরুণ ও কিশোররা। মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক রচনার প্রতি সব বয়সী পাঠকের আগ্রহ থাকলেও নবীনদের আগ্রহের মাত্রাটা অনেক বেশি। ফলে প্রকাশকরাও এসব বই প্রকাশে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সেই সূত্র ধরে প্রতিবছরই মেলায় আসছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নতুন নতুন বই।

এদিকে, গতকাল বইমেলা বিকাল থেকেই জমে উঠেছিল। বিশেষ করে কিশোর তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ।

‘লেখক বলছি’ কর্নার

প্রথমবারের মতো এ বছরও প্রতিদিন ৫ জন লেখককে ২০ মিনিট করে নিজের বই নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেক পাড়ে ‘লেখক বলছি’ কর্নারের এ আয়োজনে গতকাল বুধবার নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন প্রাবন্ধিক অজয় দাশগুপ্ত (সাত দশকের হরতাল ও বাংলাদেশের রাজনীতি), কবি ফরিদ কবির (আমার গল্প), কবি জাহানারা পারভীন (স্কুল বলতেই তোমাকেই বুঝি), কবি চঞ্চল আশরাফ (নির্বাচিত গল্প) এবং কবি মন্দিরা এষ (অরণ্য মিথের পৃষ্ঠা)। প্রত্যেকেই তাদের বইয়ের ওপর ২০ মিনিট কথা বলেন। এরপর চলে পাঠক প্রশ্নত্তোর পর্ব।

মোড়ক উন্মোচন

গত বছরের মতো এবারও মেলায় রয়েছে মোড়ক উন্মোচন কর্নার। গতকাল ৭টিসহ এখনো পর্যন্ত মোট ৩১টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে এবারের বই মেলায়।

নতুন বই

গতকাল মেলায় ১৫২টি নতুন বই এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ অফিস। এর মধ্যে গল্প ৩১টি, উপন্যাস ২২টি, প্রবন্ধ ৪টি, কবিতা ৪০টি, গবেষণা ২টি, ছড়া ১০টি, শিশুসাহিত্য ১টি, জীবনী ৩টি, মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক ৮টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান বিষয়ক ৪টি, ভ্রমণ বিষয়ক ৩, ইতিহাস বিষয়ক ৩টি, রাজনীতি ১টি, স্বাস্থ্য বিষয়ক ২টি, রম্য ১টি, সায়েন্স ফিকশন ৩টি এবং অন্যান্য ১৩টিসহ মোট ১৫২টি নতুন বই এসেছে। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে শিশু গ্রন্থকুটির এনেছে মাহবুব সাদিকের ‘তিন শিকারীর গল্প’, আগামী প্রকাশনী এনেছে মোহাম্মদ নাসিমের ‘সংসদের তিন প্রজন্ম’, কথা প্রকাশ এনেছে পলাম মাহবুবের ‘কম বয়সি সন্ধ্যা’, সময় প্রকাশন এনেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘নির্বাচন ও প্রশাসন’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. এনেছে নাসরীন জাহানের কবিতার বই ‘এসেছি সূর্যাস্ত থেকে’, আবিষ্কার প্রকাশনী এনেছে জাহিদ নেওয়াজ খানের রম্য উপন্যাস ‘আবিষ্কা’, দি রয়েল পাবলিশার্স এনেছে আহমদ মতিউর রহমানের ‘ভাষা আন্দোলনে পাঁচজন শহিদের জীবন কথা’, অনন্যা এনেছে মোস্তফা মামুনের কিশোরগল্প ‘রাজু ভাই মাইনাস শেলী আপা’, ঠিকানা গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া তুহিন আহমদ পায়েলের ভ্রমণকাহিনী ‘সুবর্ণ গ্রাম থেকে সুবর্ণভূমি’।

সুভাষ মুখোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক ঘনিষ্ঠ সুহূদ: কবি আসাদ চৌধুরী

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায় :জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসনাত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিমল গুহ, গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং শোয়াইব জিবরান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবিতার মধ্য দিয়ে সময়কে ধারণ করেছেন। কবিতার পাশাপাশি গদ্য ও অনুবাদে তিনি রেখেছেন স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন এক ঘনিষ্ঠ সুহূদ। তার মতো কবিমানুষের জন্মশতবর্ষে বাংলা একাডেমির এ আয়োজন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রশংসনীয়।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি ফারুক মাহমুদ এবং ফারহান ইশরাক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আশরাফুল আলম এবং শিরিন ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবুবকর সিদ্দিক, স্বপ্না রায়, আজগর আলীম, শফিউল আলম রাজা, অনিমা মুক্তি গোমেজ।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন