ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


এত কিছুর পরও সরানো যায়নি তারের জঞ্জাল

এত কিছুর পরও সরানো যায়নি তারের জঞ্জাল
রাজধানীতে রাস্তায় রাস্তায় তারের জঞ্জাল। ছবি: ইত্তেফাক

নানা উদ্যোগ, নানা আয়োজন তবুও রাস্তা থেকে সরানো যায়নি তারের জঞ্জাল। অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবকেও দায়ী করেছেন অনেকে। অধিকাংশ সড়কে মাথার ওপর তাকালেই চোখে পড়ে অযত্নে জটা ধরা চুলের মতো দলা পাঁকানো ইন্টারনেট, ডিশ, টেলিফোন ও বিদ্যুত্ সঞ্চালনের তার। এসব জঞ্জালের ভারে অনেক এলাকায় নুয়ে পড়েছে সড়কবাতির বিদ্যুতের খুঁটিও। এতে কেবল নগরীর সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, পথচারীদের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুলন্ত তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে ঘটছে নানা দুর্ঘটনাও।

২০১০ সালে প্রথমবারের মতো রাজধানীর তারের জঞ্জাল অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিদ্যুত্ বিভাগের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি কমিটিও গঠন করা হয়। একই সঙ্গে উন্নত বিশ্বের মতো মাটির নিচ দিয়ে বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঞ্চালন লাইন বসানোর জন্য সরকার নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের (এনটিটিএন) আওতায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ভূগর্ভস্থ লাইন বসিয়ে খুঁঁটিতে ঝুলন্ত তার স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না মূলত ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) ও কেব্ল টিভি ব্যবসায়ীদের কারণে।

সামিট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী ও এমডি এম আরিফ আল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসলে এটা অপসারণ হচ্ছে না, এই কারণে যে, আমাদের কাছ থেকে সংযোগ নিলেও তো ভাড়া দিতে হবে। আমি বলব ভাড়া দিতে না চাওয়ার কারণেই তারগুলো অপসারণ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ঝুলন্ত তারের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার প্রবণতা ফিরে আসায় ভূগর্ভস্থ লাইন ব্যবহারকারীরা ভাড়া ছেড়ে দিচ্ছেন। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মাটির নিচে লাইন বসিয়ে তাই ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আইএসপিগুলো আমাদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছেন তারা সবসময় ডাস্ট ফাইবার চান, যেটা বিশ্বের কোথাও চলে না। তারা আমাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনবেন, সেটা দিয়েই ব্যবসা করবেন। ডাস্ট ফাইবারের কারণে লাইন গেলেও আমরা বুঝতে পারি না। তারা যখন বলেন, তখন আমরা চেক করে সেটা ঠিক করি।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে দৈনিক বাংলা মোড়, গুলশান-২ থেকে বনানী মোড়, কাওরান বাজার থেকে ফার্মগেট ও উত্তরা ১, ৩ ও ৪ ও ৫ নম্বর সেক্টরসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই মাথার ওপর ঝুঁঁকিপূর্ণভাবে ঝুলছে তারের জটলা। নিকেতন থেকে গুলশান-১ নম্বর সড়ক পর্যন্ত বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের ভেতর দিয়েও তার টানতে দেখা গেছে। মতিঝিলের এলাকায় ঝুলন্ত তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে থাকায় পথচারী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্টারনেট ও ডিশলাইনের তারের কারণেই জঞ্জাল বেড়েছে। বছর দেড়েক আগে এসব এলাকা থেকে তারের জটা অপসারণ করা হয়; কিন্তু পরে যথাযথ নজরদারি না থাকায় কিছুদিন পরই আবারও লাগানো হয় ঝুলন্ত তার।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ঝুলন্ত তার অপসারণ করি; কিন্তু কিছুদিন বাদেই আবারও পুরোনো অবস্থা ফিরে আসে। আসলে এসব তারের মধ্যে অনেক সরকারি বেসরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেটের সংযোগও থাকে। ফলে চাইলেই সব সময় অপসারণ করা যায় না। তাই তারের জঞ্জাল দূর করতে বিটিআরসিসহ অন্যান্য সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে সুফল মিলবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা জুড়ে ভূগর্ভস্থ ফাইবার অপটিক বসানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের নিচেও ফাইবার অপটিক কেবেলর পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে; কিন্তু গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক পরিচয়ে আইএসপি লাইসেন্স পাওয়া শ-পাঁচেক প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম মানছে না। ভূগর্ভস্থ কেবেলর ভাড়া বাঁচাতে ইচ্ছামতো তার ঝুলিয়ে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছেন তারা। তাদের নিয়ন্ত্রণেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ডিশলাইন ব্যবসায়ীরাও নিয়ম মানছেন না।

তবে আইএসপি ও ডিশলাইন ব্যবসায়ীদের দাবি, এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার কারণে তারা ভূগর্ভস্থ লাইন ব্যবহারের আগ্রহ হারাচ্ছেন। কয়েকজন ডিশলাইন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা বিনা নোটিশে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা খুঁঁঁড়ছে। খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ লাইন কাটা পড়ছে। কাটা পড়া তার মেরামতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঝুলন্ত তারের মাধ্যমে সেবা দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কয়েকজন আইএসপি ব্যবসায়ীও একই অভিযোগ জানালেন।

আরও পড়ুন: পাঁচ দফা না মানলে প্রত্যাবাসন নয়

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, এ ব্যাপারে তাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে; কিন্তু ঝুলন্ত তার অপসারণের ক্ষমতা ডিপিডিসি এবং ডেসকোর হাতে, বিটিআরসির এ ব্যাপারে কিছু করার নেই।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন