অক্সফোর্ডের টিকায় আস্থা রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বুধবার প্রথম টিকা পাবেন একজন নার্স, ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
অক্সফোর্ডের টিকায় আস্থা রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ইন্ডিয়ার টিকাবাহী বিশেষ ফ্লাইটে ভারতের উপহার দেওয়া করোনা টিকা ঢাকা পৌঁছানোর পর। ছবি: ইত্তেফাক

নানা জল্পনা-কল্পনার পর দেশে পৌঁছেছে ভারতের উপহারের টিকার প্রথম চালান। দু-এক দিনের মধ্যে কেনা টিকাও দেশে পৌঁছবে। টিকা দেশে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে আসা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ওপর আস্থা রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, অক্সফোর্ডের টিকা সহনশীল ও গ্রহণযোগ্য। করোনার তাণ্ডব থেকে বাঁচতে সবাইকেই টিকা নিতে হবে।

একজন নার্সকে প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী ২৭ জানুয়ারি দেশে কোভিড-১৯ টিকাদান শুরু হচ্ছে। পরদিন ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে কয়েকশ’ জনকে টিকা দিয়ে দেখার পর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে টিকাদান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান।

আরও পড়ুন: ভ্যাকসিন নিয়ে বিশিষ্টজনেরা কী ভাবছেন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ জানুয়ারি টিকা দেওয়ার কার্যক্রম ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রথম টিকা দেওয়া হবে একজন নার্সকে। এছাড়া আরো ২৪ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সময় কাজ করা সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, চিকিত্সক এবং সাংবাদিকরা থাকবেন।

এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে ২০ লাখ ডোজ করোনা টিকা ‘কোভিশিল্ড’ আসে বাংলাদেশে।

জানা গেছে, ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা দেওয়া হবে। এসব জায়গায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনের ওপর টিকা প্রয়োগ করা হবে। তাদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পর সারা দেশে টিকাদান শুরু হবে। টিকা বিতরণের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব।

স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘টিকা নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। সরকার এই টিকা ফ্রি দিচ্ছে। যারা নিতে আগ্রহী হবেন শুধু তাদেরই এই টিকা দেওয়া হবে। কাউকে জোর করে টিকা দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশে সংক্রমণ তো কমে গেছে। এখন মানুষ মনে করছে, টিকা ছাড়াই যদি সুস্থ্য থাকা যায় তাহলে টিকা নেওয়ার দরকার কী? এ কারণেও হয়তো মানুষের মধ্যে টিকার প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন: সারাদেশে টিকাদানের দায়িত্বে থাকছেন যারা

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিত্সক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘সবাইকেই টিকা নিতে হবে। আমাকে দিলেও আমি নেব। অক্সফোর্ডের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম। এটা সহনশীল, গ্রহণযোগ্য। দেখেন দাঁত তুলতে গেলেও একজন মানুষ মারা যেতে পারে! সেখানে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো হতেই পারে। সেই প্রতিক্রিয়া কতটা? সেটা দেখতে হবে। অক্সফোর্ডের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম। করোনা যেভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে তাতে সবাইকেই টিকা নিতে হবে। এগুলো নিয়ে প্রোপাগান্ডায় কান দেওয়ার কিছু নেই।’

ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই দেশে আরো ৫০ লাখ করোনা টিকা আসবে বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন।

শনিবার তিনি জানান, ‘ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির ৩ কোটি ডোজ টিকা আমদানির চুক্তি হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই চুক্তির প্রথম চালান ৫০ লাখ টিকা বাংলাদেশে আসবে।’

টিকাগুলো কাভার্ডভ্যানে করে তেজগাঁওয়ের জেলা ইপিআই স্টোরে নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, টিকা দেওয়ার জন্য আমরা সারা দেশে ৭ হাজার টিম প্রস্তুত করেছি। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সারা দেশে টিকা কার্যক্রম শুরু করে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আমাদের কেনা টিকার প্রথম চালান নির্ধারিত সময়ে দু-এক দিনের মধ্যেই পৌঁছবে। প্রথমে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, চিকিত্সার সবকিছুতেই ঝুঁকি আছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। কিন্তু এই ভয়ে তো কোনো কিছুই থেমে থাকেনি। অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত শুক্রবার আমি নিজে আইসিটি বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। টিকার ব্যাপারে রবিবার থেকেই প্রচারণা শুরু হবে। আমার বিশ্বাস মানুষের মধ্যে কোনো সংশয় থাকলে সেটা দূর হয়ে যাবে।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুস্তাক হোসেনও বলেছেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমাদেরও একটা গ্রুপ এই অপপ্রচারে যুক্ত। শুধু এই অপপ্রচার নয়, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় তো ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু হলো যে, এতে শূকরের চর্বি আছে। ইন্দোনেশিয়ায় আলেম-ওলামারা বসে সিদ্ধান্ত দিলেন জীবন রক্ষাকারী ওষুধে হারাম-হালাল বলে কিছু নেই। এরপর সেখানে অপপ্রচার থেমেছে। অতএব এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে অনেকে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। টিকা কিন্তু পৌঁছে গেছে। এখন ক্রমান্বয়ে টিকা দেওয়া হবে। আমরা সবাই নির্ভয়ে টিকা নেব। কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x