করোনায় মামলা নিষ্পত্তির হার শূন্যের কোঠায়

মামলাজট কমানোর তাগিদ আইনমন্ত্রীর
করোনায় মামলা নিষ্পত্তির হার শূন্যের কোঠায়
করোনায় মামলা নিষ্পত্তির হার শূন্যের কোঠায়

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ ছিল দেশের সব আদালতের বিচারকাজ। এতে প্রভাব পড়েছে মামলা নিষ্পত্তির হারে। বিচার বিভাগসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ পাঁচ মাস বিচারকাজ বন্ধ থাকায় এ সময়ে মামলা নিষ্পত্তির হার গিয়ে পৌঁছেছে শূন্যের কোঠায়। এই নিষ্পত্তির হার কীভাবে বাড়ানো যায় সেটা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা চলছে। এজন্য চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এতে করোনাকালে বিচারপ্রার্থী জনগণের যে ক্ষতি হয়েছে তা কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের আদালতসমূহে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২৩ হাজার ৬১৭টি এবং উচ্চ আদালতে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮টি মামলা রয়েছে। নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩টি। গত এক বছরে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৫টি মামলা। এর মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫টি মামলা। আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬ হাজার ৩০৩টি। আর নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৭টি মামলা। গত ১০ বছরে ১ কোটির বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাত্ প্রতি বছর গড়ে ১০/১২ লাখ মামলা নিষ্পত্তি হয়ে থাকে এমনটাই পরিসংখ্যানে বেরিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: দেশের বাইরে প্রথমবার শাহ আবদুল করিম স্মরণ উৎসব

এদিকে বছরের শুরুতে মামলার জট কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে। এ সময় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিচারক, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে বন্ধ রাখা হয় আদালতের কার্যক্রম। পরে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে স্বল্প পরিসরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলেও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার বিচার কাজ ছিল পুরোপুরি বন্ধ। এতে মামলা নিষ্পত্তির হারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। যদিও করোনাকালে শুধু জামিন শুনানি হয়েছে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে। আর স্বল্প পরিসরে রিট আবেদনসহ অন্যান্য মামলার কার্যক্রম চলেছে হাইকোর্টে।

মামলা নিষ্পত্তির হার নিয়ে সম্প্রতি অধস্তন আদালতের বিচারকদের এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, চলতি বছরে আমরা অন্তত ৬ লাখ মামলা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই অবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে কীভাবে মামলাজট কমানো যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, বছরের এখনো প্রায় চার মাস সময় আছে, এই সময়ে দেড় লাখ মামলাজট কমাতে পারলেও কিছু একটা অর্জন হয়েছে বলে মনে করতে পারব। এ বিষয়ে বিচারকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলে। এরপরই কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশের অধস্তন আদালতে আসামি হাজির না করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আসামি হাজির না করায় বন্ধ হয়ে যায় ফৌজদারি মামলার বিচার কাজ। দেশের আদালতগুলো জনাকীর্ণ হওয়ায় এ সময় দেওয়ানি মামলার বিচার কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৫ আগস্ট অধস্তন আদালত এবং ১২ আগস্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট খুলে দেওয়া হয়। শুরু হয় শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম। অধস্তন আদালত খোলার পরই করোনায় যেসব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার রায় ঘোষণা, অভিযোগ গঠন, যুক্তিতর্ক ও আত্মপক্ষ সমর্থন আটকে ছিল তা পুনরায় সচল করতে নতুন করে দিন ধার্য করে দিচ্ছেন বিচারকরা। সেই ধার্যকৃত দিন অনুযায়ী মামলার রায় ঘোষণা করছেন বিচারকরা। নিষ্পত্তি হচ্ছে মামলা।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত