ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


লাখাইয়ে কলেজছাত্র খুনে স্বীকারোক্তি

প্রথমে মিলন, পরে প্রেমিককে খুন

প্রথমে মিলন, পরে প্রেমিককে খুন
ফাইল ছবি

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে কলেজছাত্র উজ্জ্বল মিয়া খুনের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার প্রেমিকা ফারজানা আক্তার (১৭)। মঙ্গলবার বিকেলে ফারজানা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। পরে আদালত ফারজানা আক্তার ও তার বাবা মঞ্জু মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলা আড়াইটার পর হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ছাত্রী ফারজানা আক্তারকে আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে আদালতে বিচারকের খাস কামড়ায় নেওয়া হয়।

ফারজানা আদালতকে জানান, মাধবপুর সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজের ছাত্র লাখাই উপজেলার মুড়াকরি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়ার (২২) সঙ্গে ফেসবুকে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। ফারজানার মা-বাবা ঢাকায় থাকার সুযোগে প্রায় তাদের বাড়িতে আসত উজ্জ্বল। তাদের অসংখ্যবার দৈহিক মিলন হয়েছে। কিন্তু তার জানা ছিলনা আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল উজ্জ্বলের।

২০ ফেব্রুয়ারিতে ফারজানার বাড়িতে তাদের মিলন হয়। ওই রাতে উজ্জ্বলের অন্য প্রেমিকা বার বার মোবাইলে ফোন করছিল। এক পর্যায়ে উজ্জ্বল একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। তা দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয় ফারজানা। এ ঘটনায় প্রথমে সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পাল্টায় ফারজানা। সিদ্ধান্ত নেয় প্রেমিকে মেরে ফেলার। সে মোতাবেক রাতেই ঘরে থাকা শিল-পাটার শিল দিয়ে প্রেমিক উজ্জ্বলের মাথায় প্রথমে আঘাত করে। এতে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উজ্জ্বলের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় ফারাজান। পরে নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে লাশ সেখানে পুঁতে রাখে।

সকালে সে ঢাকায় গিয়ে মা-বাবার কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানায়। খবর পেয়ে মা-বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ছুটে আসেন। রাতে তার বাবা মঞ্জু মিয়া লাশ বস্তা বন্দি করে মেন্দি হাওরের একটি বিলে ফেলে দেন।

আরও পড়ুন: প্রথমে পিতা পরে পুত্রের ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী এক শিশু

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ফারজানার বাবা মঞ্জু মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেন্দি হাওরের একটি বিল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উজ্জ্বল মিয়ার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি উজ্জ্বলের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বাবা শাহ আলম থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এর প্রেক্ষিতে এলাকার বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। রবিবার ফারজানা ও তার বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে ফারজানা খুনে ঘটনা স্বীকার করে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন