ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
ছবি: ইত্তেফাক

অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল বাংলাদেশ। ১৬ কোটি বাঙালির আশার পালে হাওয়া যুগিয়েছে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাওয়া অনন্য জয়; কিন্তু ২২ গজের লড়াইয়ে ভুলভ্রান্তি, প্রকৃতির বৈরিতা মিলে বিশ্বকাপের মাঝপথে এসে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। সেমিফাইনালের চৌকাঠে পা রাখার স্বপ্ন যেন এখন বড়সড় পরীক্ষার সামনে।

চার ম্যাচে একটি জয়, দুইটি হার ও একটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করা বাংলাদেশের ঝুলিতে এখন ৩ পয়েন্ট। শেষ চারে খেলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এখন অসম্ভব না হলেও কঠিন চ্যালেঞ্জের নামান্তর। সমীকরণ বলছে, বিশ্বকাপে লিগ পর্বের অবশিষ্ট পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতেই জিততে হবে মাশরাফি বাহিনীকে।

ভীষণ চাপের নতুন অধ্যায়কে ভাগ করেই পাড়ি দিতে বলছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, এখনই সেমির চিন্তা করা ঠিক হবে না। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগুতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলও বলছেন, সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে একসঙ্গে এত ম্যাচের চিন্তা করলে চাপটা পাহাড়সম হয়ে যাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জিতলে সেমিতে যাওয়া সম্ভব হবে বাংলাদেশের পক্ষে। তাই ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে জয়ের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

এখনই সেমির চিন্তা করতে নরাজ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এখন এসব ভাবলে হবে না। এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো খেলতে হবে, ভালো ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। এখন ধাপে ধাপে যেতে হবে। বিশ্বকাপে আপনি আগাম বলতে পারবেন না, এতগুলো খেলা জিতবেন। আগামী ৫টা ম্যাচ জিতবেন। সবদলই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচটার দিকেই চোখ রাখছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেছেন, ‘এখন ১৭ জুন ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, এটা জিততে হবে। এটা জিতলে পরের ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য।’

ব্রিস্টলে গত ১১ জুন বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পণ্ড হয়েছে বাংলাদেশের ম্যাচ। তারপরও সেমির আশা ছাড়ছেন না মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ১ পয়েন্ট পেয়েছি। একটা পয়েন্ট তো প্লাস হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলে একটা ভালো অবস্থানে আসা যাবে। সব দলেরই ম্যাচ আছে। সমীকরণে কাটাকাটি হবে। দেখা যাবে এই পাঁচ ম্যাচের তিনটা জিতেও আমরা সেমিতে উঠে যেতে পারি।’

এখন ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ভাবতে গেলে বাড়তি চাপ আসবে দলের উপর। সাবেক এই অধিনায়ক এমনটাই মনে করেন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে ম্যাচ ২ জুলাই। এখনই এটা ভাবা শুধু চাপ ছাড়া আর কিছু নয়। আগে ঠিক করতে হবে কালকের ম্যাচ আমার কার সঙ্গে। সেটা জেতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

আগামী ১৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২৪ জুন আফগানিস্তান, ২ জুলাই ভারত ও ৫ জুলাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল স্বীকার করেছেন, সমীকরণটা একটু কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। তবে পুরো চিত্রটা একসঙ্গে না ভেবে এখন ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

গতকাল আশরাফুল বলেছেন, ‘একটু কঠিন হয়ে গেছে। ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করা উচিত। আমাদের পরবর্তী ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেমিফাইনালের চিন্তা না করে, ওয়ান বাই ওয়ান পরিকল্পনা করে এগুতে হবে। ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। সেমিফাইনাল তো ৫ ম্যাচ পর বুঝা যাবে।’

আশরাফুল বলেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যদি আমরা জিততে পারি। তাহলে আমার মনে হয় আমরা পরের ম্যাচগুলোও জিততে পারব।

আরও পড়ুন: সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার

এদিকে টন্টনেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রবল চাপের নতুন অধ্যায়। ব্রিস্টল ছেড়ে গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে টন্টনে চলে গেছে মাশরাফির দল। গতকাল ও আজ বিশ্রামে কাটবে টাইগারদের। আগামীকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় সমারসেট কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুশীলন নামবে মাশরাফি বাহিনী। তার আগে টন্টনে কমিউনিটি ক্রিকেট কর্মসূচিতে অংশ নেবে টাইগাররা। ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে টন্টনের ছোট মাঠও বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অধিনায়ক মাশরাফি বলছেন, লড়াই ছাড়া বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। গত মঙ্গলবার ব্রিস্টলে তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, টন্টন খুব ছোট মাঠ। এবং বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এটা সহজ হবে না। কিন্তু মাঠে কঠিন লড়াই করা ছাড়া আমাদের হাতে কোনো ভালো বিকল্প নেই।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন