ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


চালের মূল্য বৃদ্ধিতে ‘সিন্ডিকেট’ খুঁজে পায়নি বিআইডিএস

চালের মূল্য বৃদ্ধিতে ‘সিন্ডিকেট’ খুঁজে পায়নি বিআইডিএস
ফাইল ছবি

দেশে চালের মূল্য নিয়ে কোনো ‘সিন্ডিকেট’ পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা-প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বাজার চাহিদা ও জোগানের ফারাককে দায়ী করে বলা হয়েছে, দেশে মিল মালিকদের কারসাজি করার সুযোগ নেই। সরকারের মজুত যখন কমে আসে তখন চালের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং ধান সংগ্রহের আগ মুহূর্তে দেশে চালের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এটা চাহিদা ও জোগানের ফারাক।

বিআইডিএস এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নানজীন আহমেদ গবেষণা পত্র উপস্থাপন করে বলেন, চালের মজুতের তথ্য মনিটরিং করে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু নিয়মিত মজুতের তথ্য দেওয়া হয় না, এর খবরও কেউ রাখে না। চাল সরবরাহ প্রক্রিয়া মূলত মিলনির্ভর। মজুত আইন অনুযায়ী ধারণ ক্ষমতার পাঁচ গুণ ধান ৩০ দিন এবং দ্বিগুণ চাল ১৫ দিন পর্যন্ত মজুত করা যায়। এটি মানছে কি না সেটি মনিটরিং করতে হবে। দেশে মোট চালের ২০ শতাংশের মতো মজুত করতে পারে বড়ো ৫০টি মিল। এখানে মনিটরিং জোরদার করতে হবে যাতে করে কোনো মিলার বেশি সময় ধান বা চাল আটকে না রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ ভাগ মিলে ধারণক্ষতার চেয়ে বেশি মজুতের জায়গা রয়েছে। দেশে ২০ হাজার নিবন্ধিত চালের মিল রয়েছে। তাদের শত কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। যদি তারা দীর্ঘমেয়াদে চাল আটকে রাখে তাহলে বিনিয়োগকৃত অর্থে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।গতকাল রবিবার গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা বিস্তরণ উপলক্ষ্যে ‘রিসার্চ এলামনাক’ এর আয়োজন করা হয়। এতে দেশের চালের বাজার নিয়ে করা এক গবেষণায় এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত বিধিমালা উপেক্ষিত

গতকাল রবিবার দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নুরুল আমিন। সঞ্চালনা করেন বিআইডিএস এর মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ। বিভিন্ন সেশনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. শামসুল আলম বলেন, চাল উত্পাদন, আমদানি ও দেশে খাদ্য গ্রহণের তথ্যে অনেক গরমিল রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গড়ে দেশে বছরে ৩ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন চাল উত্পাদন হয়। প্রতিদিন গড়ে ৩৬৭ গ্রাম চাল গ্রহণ করলে দেশে ১৬ কোটি মানুষের প্রয়োজন হয় ৩ কোটি মেট্রিক টন। নানারকম পশুখাদ্যে ১২-১৩ শতাংশ এবং মজুত পর্যায়ে আরো ২০ লাখ মেট্রিক টন হিসাব করলেও দেশে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত থাকার কথা। অথচ গড়ে প্রতি বছর ৯ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ চাহিদার বিপরীতে উত্পাদন হচ্ছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। তাহলে বাড়তি সামান্য পেঁয়াজ আমদানি করলেই দেশের চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য উপাত্তে সেটি মিলছে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গবেষণায় বিআইডিএস ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান সেভাবে গড়ে উঠেনি। কিছু ভুঁইফোঁড় গবেষণা-প্রতিষ্ঠান দেখা যায় তারা রাবিশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে আগামী দু্ই-তিন বছর শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাত নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে যাচ্ছে। তাদের অর্থনীতির উত্থান-পতনে প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও। এর জন্য বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি সংলাপের আয়োজন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এম সাইদুজ্জামান বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে ব্যাংকিং খাতকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে বৈষম্য কমিয়ে আনা ও আর্থিক খাতের উন্নতি করাকে তিনি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন।

ইত্তেফাক/এএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন