ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


নার্সিং কলেজে প্রভাষক নিয়োগ

রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত বিধিমালা উপেক্ষিত

আদেশ প্রত্যাহার না করলে আন্দোলনে যাবেন নার্সরা
রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত বিধিমালা উপেক্ষিত
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে নার্সিং কলেজে প্রভাষক নিয়োগের আদেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন শাখা-৩। গতকাল রবিবার এই আদেশটি স্বাস্থ্য সচিব (শিক্ষা) বরাবর পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এই চিঠির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে যে, সিনিয়র স্টাফ নার্স বা সমমানের পদে কর্মরতদের প্রভাষক (নার্সিং) হিসেবে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের সুযোগ নেই। অথচ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অনুমোদিত নিয়োগ বিধিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, নার্সদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রভাষক নিয়োগ দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্সিং কর্মকর্তা, বিএমএ ও নার্স সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঐ আদেশটি রাষ্ট্রপতির আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অর্থ মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারির ক্ষমতা রাখে না। কিংবা এই আদেশ জারি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রের অংশ। এক শ্রেণির ষড়যন্ত্রকারী কর্মকর্তারা জানেন, কোন্ আদেশ জারি করলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। সেই কাজটি তারা করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত আদেশ জারির মাধ্যমে। এই আদেশটি রোগী মারার আদেশ বলে তারা দাবি করেন।

আরও পড়ুন: চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে বড়ো বাধা সশস্ত্র চার গ্রুপ

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৫ সহস্রাধিক উচ্চতর ডিগ্রিধারী নার্স আছেন। প্রতি বছর ১৬টি নার্সিং কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কয়েকশ নার্স পাশ করে বের হচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নার্সিং বিষয়ে এমপিএইচ, এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করছেন। বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারী নার্স আছেন কয়েক হাজার। কিছুদিন আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন শাখা-৩ সরকারি নার্সিং কলেজে ১১২ প্রভাষক পদে ননমেডিক্যাল পারসন সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার আদেশ জারি করে। প্রথম শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকসহ (সম্মান) দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে বলে ঐ আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাতটি নার্সিং কলেজে ১৬ জন করে মোট ১১২ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি, কম্পিউটার, সাইকোলজি, সোশিওলজি, অ্যাডাল্ট মেডিক্যাল, সার্জিক্যাল নার্সিং, মিডওয়াইফারী, অবস্টোট্রিক ও রিপ্রোডাকটিভ হেলথ, ফান্ডামেন্টাল নার্সিং, হেলথ অ্যাসেসমেন্ট, পেডিয়াট্রিক নার্সিং, সাইকিয়াট্রিক অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ নার্সিং, ইমারজেন্সি ও ক্রিটিক্যাল নার্সিং, নার্সিং এডুকেশন ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ইংরেজি ও কম্পিউটার ছাড়া বাকি সব পদ নার্সিং সেবা সংক্রান্ত। অথচ এসব পদ পূরণ করা হবে ননমেডিক্যাল পারসন দিয়ে। এক্ষেত্রে তারা কী ধরনের শিক্ষা দেবে—এমন প্রশ্ন করেন অনেকে।

ইত্তেফাক/এএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন