ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

কড়াকড়িতে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা জোয়ার সরকারের ব্যাংক ঋণে

কড়াকড়িতে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা জোয়ার সরকারের ব্যাংক ঋণে
ছবি-ইত্তেফাক

সঞ্চয়পত্র বিক্রি ব্যাপক হারে কমে গেছে। আর সঞ্চয়পত্র কমে যাওয়ায় অর্থ সংকট মেটাতে সরকারকে ব্যাংকের দিকে হাত বাড়াতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংক থেকে সরকার ব্যাপক হারে ঋণ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানান কড়াকড়িতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম থেকেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমতে শুরু করে। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রথম দিকে কত শতাংশ কর দিতে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। ফলে মানুষ সঞ্চয়পত্র বিমুখ হয়ে পড়ে। মূলত, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা, এক লাখ টাকার ওপরে হলে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া, অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতির কারণে একই ব্যক্তির বিভিন্ন জায়গা থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ এবং অর্থের উেসর বিবরণ দেওয়ার নিয়মের কারণেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যায়। এছাড়া এক ব্যক্তি কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে তারও সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার কারণেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। একজন ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থ না পেয়ে সরকারকে ব্যাংকমুখী হতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মাত্র পাঁচ মাসে বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফেলেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে গত ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ৬০৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে ঋণের পরিমাণ ছিল। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পুরো সময়ে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়েছিল ২৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে সরকারের ব্যাংক ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

আরো পড়ুন: হালনাগাদে যুক্ত হচ্ছে প্রায় এক কোটি নতুন ভোটার

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত অক্টোবরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে ৮২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একক মাস হিসেবে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই হিসাব সবচেয়ে কম। আগের অর্থবছরের একই মাসে যা ছিল ৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ আগের বছরের একই মাসের চেয়ে অক্টোবরে নিট বিক্রি ৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা কমেছে। গত চার মাসে ধারাবাহিকভাবে কমেছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। আগস্টে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার, সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ৯৮৫ কোটি টাকা।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, একদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাচ্ছে অন্যদিকে সরকারের ব্যাংক ঋণ বাড়ছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়লেও সরকারের সমস্যা অন্যদিকে; ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলেও সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। কারণ তাতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যায়। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমে গেছে। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি বেশি ঋণ নেওয়ার কারণেই এমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি মনে করেন। সরকার ব্যাংক থেকে যেভাবে ঋণ নিচ্ছে তাকে তিনি নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত এ বিষয়ে বলেন, সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমানোর জন্য কড়াকড়ি আরোপ করার কারণেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং তিন বছর মেয়াদি ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এগুলোর গড় সুদের হার ১১ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো অফিস ও পোস্ট অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন