ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যরাতে চুয়েটে শিক্ষার্থী-পুলিশ মুখোমুখি

সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যরাতে চুয়েটে শিক্ষার্থী-পুলিশ মুখোমুখি
সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যরাতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পাহারারত পুলিশ। ছবি: ইত্তেফাক

সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবস্থান নিয়েছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী এবং পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা হতে শনিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের চুয়েট গেইট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এই পাঁচ পুলিশ ও চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ দৈনিক ইত্তেফাককে বলে, চুয়েটের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে চুয়েট মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। বহিরাগতরা যাতে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে পুলিশ প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বরত ছিল। রাত ১টার দিকে ১৫ ব্যাচের পূরকৌশল বিভাগের আনাস মৃধা নামে এক শিক্ষার্থী হঠাৎ দলবল নিয়ে এসে প্রধান ফটকে লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে গেইটে দায়িত্বরত পুলিশের চুয়েট ফাঁড়ির আইসির কাছে কৈফিয়ত চান তার কোচিং সেন্টারের ছেলেদের প্রবেশ করতে দেয়নি কেন। এই সময় সে দায়িত্বরত পুলিশের গায়ে হাত তোলে। আমরা তাকে ধরে পাশের আনসার রুমে নিয়ে যায়। স্যারদের হাতে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এর পরই চুয়েটের ছাত্ররা লাটিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করতে চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা কাপ্তাই সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টাও চালায়। তাদের ছোড়া ইট-পাথরের টুকরার আঘাতে এক এসআই, ২ এএসআই, ২ কনস্টেবল আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে পাল্টা আঘাত করেনি। সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশ নেওয়া অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রবিবার ভোর চারটার দিকে আমার চুয়েট ত্যাগ করি।

চুয়েট ১৫ ব্যাচের ইলেকট্রিকাল বিভাগে শিক্ষার্থী ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, 'ঘটনার পূর্বে চুয়েটের কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে খেতে গিয়েছিল। তারা সঙ্গে আইডি নেননি। তারা যখন ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন তখন বহিরাগতদের ভিড় ছিল ফটকের বাইরে। এই সময় পুলিশ তাদের ভিতরে প্রবেশে বাঁধা দেয়। তখন আমাদের এক শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করলে পুলিশ তিনিসহ দুইজনকে আটক করে আনসার কক্ষে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে পুলিশ আমাদের শিক্ষার্থীদের আঘাত করে। এতে একজনের মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।' তিনি শিক্ষার্থীদের পুলিশের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেন। সেই সাথে তিনি পুলিশের আঘাতে চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করলেও আহতদের নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এই বিষয়ে চুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মশিউল হক বলেন, 'গতরাতে চুয়েটে অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের প্রথমে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের হামলায় দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। পুলিশের কেউ আহত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন উত্তেজিত ছাত্ররা ইটের টুকরা ছুড়েছিলে এতে হয়তো কারও গায়ে লাগতে পারে।'

আরও পড়ুন: বরুড়া উপজেলা আ. লীগের সম্মেলন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৮

চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখনও (শনিবার সন্ধ্যা ৬:৪০) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।'

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন