ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


ওসমানীনগরে স্কুলে মেয়েদের জন্য ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ

ওসমানীনগরে স্কুলে মেয়েদের জন্য ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ
ওসমানীনগরে মাধ্যমিক পর্যায়ের মেয়েদের জন্য গার্লস ফ্যাসিলিটিজ কক্ষ। ছবি: ইত্তেফাক

ওসমানীনগর উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। শীঘ্রই উপজেলার আরও সাতটি ইউনিয়নের একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপনের কাজ উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শুরু হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে উপজেলার দয়ামীর সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম এরকম একটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়।

সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানের উদ্যোগে দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহযোগিতায় এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার দয়ামীর সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপন করা হয়। ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ রুম’ নামের ৪১০ বর্গফুটের কক্ষে বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে।কক্ষটির সুবিধা ভোগ করছে বিদ্যালয়ের প্রায় সাতশ ছাত্রী।

বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দয়ামীর সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে আসবাবপত্রসহ নানা উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষটি। কক্ষটির মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে টাইলস। ছাদের সিলিংয়ে করা হয়েছে কারুকাজ। দেয়ালে সাঁটানো রয়েছে বিভিন্ন মনীষীর ছবি। রুমের একপাশে রয়েছে পড়ার চেয়ার-টেবিল এবং অন্য পাশে বসার জন্য সোফা। দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে একটি ক্যাবিনেট যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। রুমের ভেতরে রয়েছে একটি সুসজ্জিত ওয়াশরুম এবং এর পাশে রয়েছে হাত-মুখ পরিষ্কারের জন্য পানির ট্যাপ ও বেসিন। পাশে রয়েছে পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ। রয়েছে ছাত্রীদের বিশ্রামের জন্য একটি খাট। ছাত্রীদের শারীরিক সমস্যায় রয়েছে ফাস্ট এইড বক্স। কক্ষটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাভলী বেগম, ও তাহমিনা আক্তার বলেন, আমাদের জন্য নির্মিত কক্ষটি খুব সুন্দর। এটি ব্যবহার করে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই সব বিদ্যালয়ে এরকম কক্ষ তৈরি করা হোক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ দুলাল মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে ছাত্রীদের জন্য এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে এই কক্ষটি ব্যবহার করে আনন্দিত।

আরও পড়ুন:তিহাসটি এই তরুণীর লেন্সে

‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপনের উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের মেয়েদের জন্য এই উদ্যোগ। জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে উপজেলা প্রতিটি বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ইচ্ছা আছে। সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সিলেটের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য এধরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন