ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


আন্দোলনের মুখে বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

আন্দোলনের মুখে বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ
ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: ইত্তেফাক

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির পদত্যাগের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ ঘটনায় ভিসি সমর্থকের হামলায় অন্তত এক ছাত্রীসহ ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গোবরা, সোনাকুড়, নবীনবাগ এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে । আহত অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার খবর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস । শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে, জয় বাংলা চত্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে । এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব ব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে ।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের আখি, কৃষি বিভাগের ২য় বর্ষের মাসুকুর রহমান, ৩য় বর্ষের শীমান্ত, অর্থনীতি চতুর্থ বর্ষের নাফিস, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২য় বর্ষের ফাহাদ, রসায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের মো. রাকিব হোসেন, আশিকুর রহমান, ফিসারিজ বিভাগের ২য় বর্ষের সৈকত, লোক প্রশাসন বিভাগের ২য় বর্ষের রুদ্র, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের মাসুদ,শাহরিয়ার মিজান, আল-আমিন প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ জারি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত রাখাসহ সম্ভাব্য সকল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের মৌখিক অনুমতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পূজার নির্ধারিত ছুটির সাথে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। চিঠিতে হলের শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ১০ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মির্জাপুরে ২৪৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে

গত বুধবার রাত থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

আন্দোলনরত আহত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার রাত থেকে হলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে ভিসি সমর্থক বহিরাগতরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নবীনবাগ, সোনাকুড় ও গোবরায় মারপিট করেছে। এতে ২০ জন শিক্ষার্থী আতে হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সকল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিবাজ, ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্যকারী ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক টর্চার সেলে পরিণত করেছে। বিএনপি-জামায়াত পন্থি এই ভিসির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। দফায় দফায় ভিসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের অবস্থান থেকে সরাতে ভিসি পন্থিরা ধাওয়া দিচ্ছে। তারা উৎকণ্ঠা উত্তেজনা ও আশঙ্কার মধ্যেও আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে ভিসি বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দ্যা ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়িাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্যায়ভাবে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ১০ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এজন্য হলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পাসে মোতায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, ধাওয়ার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।

ইত্তেফাক/জেডএইচ/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন