সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের জরিপ

করোনা: ৬৪ ভাগ শিশুর মতে 'কঠিন খাদ্য সঙ্কটে আছে পরিবার'

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ২১:১৫

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৬৪ ভাগ শিশুর মতে তাদের পরিবার বর্তমানে কঠিন খাদ্য সঙ্কটে আছে বলে এক জরিপের তথ্যে জানিয়েছে সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের উপর চলমান মহামারীর প্রভাব এবং বিরূপ প্রভাবকে হ্রাস করতে কৌশল ও কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয় বলে জানায় সংগঠনটি।

শহুরে বস্তি, চা বাগান এবং সুবিধা বঞ্চিত গ্রামাঞ্চলের ১০-১৮ বছর বয়সী ১২১ জন শিশুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই ১২১ জনের মধ্যে ৪০ শতাংশ ছেলে ও ৬০ শতাংশ মেয়ে এবং প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে। জরিপটি চালিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স ও চাইল্ড প্রোটেকশন সেক্টর। এই শিশুদের অধিকাংশই জানায়, তারা এখন পর্যন্ত সরকার বা বেসরকারি কোন সংস্থা থেকে সাহায্য পায়নি।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ও শিশু অধিকার পরিচালনা সেক্টর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'এই সংকটটি শিশুদের শারীরিক এবং মনো-সামাজিক সুস্থতার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। আমরা এই সংকট সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি, মতামত পেতে সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। আমরা আশা করি এই জরিপটি, শিশুদের উপর এই সংকটের বিরূপ প্রভাব দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।'

জরিপে করা ২০টি প্রশ্ন থেকে আরও জানা যায়, ৯০ শতাংশ শিশুকে তাদের স্কুল থেকে লেখাপড়ার কোন খোঁজ নেওয়া হয়নি, ৯১ শতাংশের বাড়িতে পড়াশোনায় সাহায্য করার কেউ নেই এবং ২৩ শতাংশ বাসায় একেবারেই লেখাপড়া করার কোন ব্যবস্থা নেই। সাধারণত যে শিশুরা বাড়িতে লাঞ্ছনাকর শাস্তির মুখোমুখি হয়, তাদের মধ্যে ২১ শতাংশ কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই ধরনের শাস্তি বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে এটি ৪৭ শতাংশ বেড়ে গেছে।

বিশ্বব্যাপী সেভ দ্য চিলড্রেন ‘প্রোটেক্ট এ জেনারেশন ফ্রম কোভিড-১৯’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, বিপর্যয় এড়াতে প্রয়োজন কমিউনিটি, জাতীয় এবং বৈশ্বিক পর্যায়ের সমন্বিত কিছু পদক্ষেপ। এই জরিপের আলোকে সমস্যা সমাধানের জন্য পাঁচটি সুপারিশ প্রদান করে সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ। সেখানে বলা হয়- সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস, প্রয়োজন আছে এমন পরিবারগুলির জন্য জীবিকার সহায়তা প্রদান, স্কুল-কলেজের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা করতে নিয়মিত ফলো-আপ, সহিংসতা থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সংকট মোকাবেলায় শিশুদের মনো-সামাজিক সহায়তা প্রদান।

এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিশু অধিকার ভিত্তিক একটি জাতীয় রেসপন্স কৌশলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

ইত্তেফাক/আরএ