দেশে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়ল। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই আদেশ রবিবার মধ্যরাত থেকে আগামী ৩০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বলবত থাকবে। তবে বিধিনিষেধের মধ্যেই আজ সোমবার থেকে শর্তসাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলবে। এছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে (দুই আসনে একজন) খুলে দেওয়া হবে আজই। তবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালতের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়ম (রোস্টার পদ্ধতি) বহাল থাকবে।
বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ রোধে সারা দেশে ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ ছিল ৪৯ দিন। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ঈদে ঘরে ফেরা মানুষদের। মানুষের জীবন-জীবিকা এবং চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হলেও যেকোনো সময় এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন গাড়ি বন্ধ থাকার কারণে কাজকর্মে বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করেই এক সপ্তাহের জন্য শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অল্প করে শিথিল করে দেখা হচ্ছে। করোনা বেড়ে গেলে যেকোনো সময় সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করতে হবে।’ যারা ভ্যাকসিন নেননি তারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন উল্লেখ করে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে বলে জানান তিনি।
আদেশে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোতে আসন সংখ্যার অর্ধেক গ্রাহককে বসিয়ে খাওয়ানো যাবে। দোকানপাট/শপিংমলসমূহ পূর্বের ন্যায় খোলা থাকলেও সব দোকানপাট-শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দোকানপাট, শপিংমল তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন, জেলা সদর, পৌরসভা এলাকাসমূহে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/পৌরসভা মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকবে বাস ট্রেন লঞ্চে, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি: রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের মাস্ক পরিধানসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আন্তঃনগর ট্রেনসমূহের টিকিট শুধুমাত্র অনলাইনে কাটা যাবে। কাউন্টারে দেওয়া হবে না। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানিয়েছেন, কোনো যাত্রীকে মাস্ক ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ জানিয়েছেন, আজ থেকে দেশের সব দূরপাল্লা রুটের বাস চলাচল করবে। এ ব্যাপারে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে-মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রী গাড়িতে উঠতে পারবেন না। গাড়িচালক, সুপারভাইজার, কন্ডাক্টর, হেলপার এবং টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান-পানি, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গাড়িতে সিটের অর্ধেক যাত্রী বহন করতে হবে (২ সিটে ১ জন যাত্রী বসবে)। অর্ধেক যাত্রী বহন করার পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রীদের নিকট থেকে বর্তমান ভাড়ার অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ আদায় করা যাবে।
এদিকে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচলের অনুমতির খবর শোনার পর থেকেই পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে দূরপাল্লার বাস। ফলে কয়েক লাখ পরিবহন শ্রমিক অভাব-অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন।
নৌযান চলাচলের বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) ভোর ৬টা থেকে বিভিন্ন রুটে নৌযান চলাচল করবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ইত্তেফাক/এমআর

