কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক অসুস্থ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ১৬:১২

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক কোমরে ব্যথা পেয়ে প্রায় একমাস ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শয্যাশায়ী রয়েছেন। বাথরুমে পড়ে গিয়ে তিনি কোমরে ব্যথা পান। এ অবস্থায় তিনি কাছের মানুষজনকেও চিনতে পারছেন না বলে তার ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ হাসান মৌলী জানান। 

তিনি বলেন, ‘বাবা মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করেন। করোনার কারণে সেই সুযোগ তিনি পাচ্ছেন না।’ 

ড. ইমতিয়াজ হাসান বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে বাবা বাথরুমে পড়ে যান। এতে তিনি কোমরে ব্যথা পান। পড়ে গিয়ে যেখানে ব্যথা পেয়েছিলেন সেখানে এক্স-রে করানো হয়েছে। সেখানে হালকা ফ্যাকচার ধরা পড়েছে। এরপর থেকে তিনি বিছানাগত। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। শরীরে লবণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে কাউকে চিনতেও পারছেন না। অনেকটা ঘোরের মধ্যে রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটজন চিকিৎসক বাবার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা বাসায় এসে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শমতো তার বাবার চিকিৎসা বাড়িতেই চলছে। চিকিৎসকরা বলেছেন কোমরের ব্যথা ভালো হয়ে যাবে।’ তিনি তার বাবার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করেন। 

ড. ইমতিয়াজ হাসান বলেন, বার্ধক্যজনিত সমস্যা ছাড়াও আগে থেকেই তার হার্টে সমস্যা, ডায়াবেটিসও রয়েছে। বর্তমানে তিনি বেশি ভুগছেন হাইপোন্যাট্রিমিয়ায়। এটা হচ্ছে শরীরে লবণের ঘাটতি। লবণের ঘাটতি পূরণে তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে, লবণের ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাসাতেই তার ইসিজি করানো হয়েছে। তিনি একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন, চিন্তাশক্তিও কমেছে। খুব বেশি কথা বলতে পারছেন না।

অন্তরঙ্গ আলোকে হাসান আজিজুল হক | 459207 | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

এরআগে গত সোমবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ হাসান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার বাবা অধ্যাপক হাসান আজিজুল হকের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি (ড. ইমতিয়াজ হাসান) লিখেছেন, ‘আম্মা মারা যাওয়ার পর থেকেই সবার মাঝে থেকেও আব্বা বড় একা, তাকে আরও একা করে দিয়েছে কোভিড-১৯ অতিমারি। ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি, বাঁচার জন্য আব্বার ভাত-তরকারির সাথে সাথে মানুষের সঙ্গ-হাসি-গল্প-গান দরকার হয়। সংগত কারণেই এসময় সেটা পাচ্ছেন না। কোভিডের মরণ কামড় এড়িয়ে অন্যান্য বার্ধক্যজনিত সমস্যা সামাল দেওয়া কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা ভুক্তভোগীরা জানেন। আব্বা বয়সের ভারে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন অনেকটা, মনটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছে একটু, আড়ালেও কি চলে যাচ্ছেন ধীরে ধীরে?’

Hasan Azizul Huq to receive Sufia Kamal Padak

ইমতিয়াজ হাসান আরও লিখেছেন, ‘গত এক মাস যাবৎ তিনি ভীষণ অসুস্থ, ছোট একটি শিশুর মতোই আমাদের পরিচর্যা করতে হয়। পরিবারের মানুষ আর গুটিকয়েক শুভানুধ্যায়ী ছাড়া আর কেউ সে কথা জানেন না। অনেকেই হয়তো মন চাইলেও তার খবর নিতে পারেননি বা যোগাযোগ করতে পারছেন না। সে জন্যই এটুকু লেখা। আপনাদের দোয়ায়, প্রার্থনায় তাকে রাখবেন।’

উল্লেখ্য, অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে রাজশাহী মহানগরীর চৌদ্দপাই এলাকার ‘বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটির (বিহাস)’ নিজ বাসা ‘উজান’-এ বসবাস করছেন। 

ইত্তেফাক/এএএম