ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩১ °সে


ঠাকুরগাঁও-১: মির্জা ফখরুলের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রমেশ সেন

ঠাকুরগাঁও-১: মির্জা ফখরুলের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রমেশ সেন
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের লড়াইটা বেশ জমবে বলেই মনে করছেন এখানকার ভোটাররা। আসনটির জন্মলগ্ন থেকে জয়-পরাজয়ের হিসেব বলছে, এটা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। তাদের আছে শক্তিশালী জনপ্রিয় প্রার্থী রমেশ সেন। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ এর জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে এখান থেকে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম। মাঝে ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এই এলাকায় থেকে সংসদ ভবনের টিকিট পান রমেশ চন্দ্র সেন।

এলাকাঘুরে দেখা যায়, সর্বত্র নৌকা প্রতীকের পোস্টার। প্রার্থীদের কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস বসিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। আবার কেউ অনলাইনে নিজের পেজ খুলে উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে প্রচারণা করছেন।

অন্যদিকে গত ১১ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন প্রচারণায় দেখা গেলেও তা এখন দেখা যাচ্ছে না। কিছু নেতাকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করলেও এখন নিজ নিজ এলাকার দেয়ালে তাদের কারো পোস্টার চোখে পড়েনি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী রমেশ সেন বলেন, জনগন এলাকায় উন্নয়ন দেখেই নৌকাকে ভোট দিবে। এই আসনে বিগত ১০ বছরে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা জোট সরকারে আমলে কখনই সম্ভব হয়নি আর হবেও না।

অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ করছেন তাদেরকে পোষ্টার লাগানো, গণসংযোগ করতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ি বহরে হামলা করে সাধারণ ভোটারদের মাঠে আতংক তৈরি করে দিয়ে আওয়ামী লীগ তাই সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় তারা।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, গ্রেফতারের ভয়ে গ্রাম পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীরা বাসায় থাকতে পারছে না। প্রচারনা করতে গেলেই নানা রকম ভয়ভীতি দেখা হচ্ছে। ইসি যদি সুষ্ঠ নির্বানের পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে তাহলে ব্যালটের মাধ্যমে মানুষ জবাব দিয়ে ধানের শীষে দিয়ে। ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ সুষ্ঠ পরিবেশ পেলেই সরকার পতনের ঘটানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আরো পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-২: হাতছানি দবিরুলের, শেষ সুযোগের অপেক্ষায় জেলবন্দী হাকিম

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, প্রচারণা করলে গেলে যারাই হামলা করে, আবার তারাই মামলা করে। আর পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য অপেক্ষা বসে আছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামীলীগের নিদের্শনায় পরিচালিত। তাই সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আমরা। তবুও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা ভোটে এসেছি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। মানুষ ভোট দিতে পারলেই স্বৈচারি সরকারের পতন অনিবার্য। ৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোট দিয়ে বিজয় নিয়ে আসবে ধানের শীষের।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীই জনপ্রিয়। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন না হলে নির্বাচনে কে জিতবে আর কে হারবে সেটা এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন