ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

আধা পয়সা না থাকলেও এক টাকা হয় সরকার তা প্রমাণ করেছে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আধা পয়সা না থাকলেও এক টাকা হয় সরকার তা প্রমাণ করেছে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
গতকাল জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতিনিধি সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। ছবি: ইত্তেফাক

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, “ইনু (জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু) একবার বলেছিলেন, ‘আমরা আধা পয়সা হতে পারি, কিন্তু আধা পয়সা ছাড়া আপনি এক টাকা হতে পারবেন না’। কিন্তু আমাদের সরকার প্রমাণ করেছে, আধা পয়সা না থাকলেও এক টাকা হয়। আমরা (জেপি) কিন্তু একথা বলব না, আধা পয়সা ছাড়া আপনি এক টাকা হবেন না। আমরা ডাকলেও আছি, না ডাকলেও আছি।” গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জিনডিয়ান রেস্টুরেন্টে জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতিনিধি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘দেশে নির্বাচন হয়ে গেছে, সরকারও গঠন হয়েছে। আমরা শান্তিতে আছি, ভালো আছি।’ তিনি বলেন, দেশে সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর সব দেশেই নানা চড়াই-উত্রাই, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনীতি ও গণতন্ত্র এগিয়েছে। অনেক কিছুর পরেও কেউ রাজনীতিকে বাদ দিতে পারেনি, গণতন্ত্র থেকে বের হওয়ার বিকল্প খুঁজে পায়নি। এর বাইরে যা কিছু থাকে, তা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, ‘রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। সনাতন রাজনীতি এখানে আর চলবে না। আমরা রাজপথের লোক। যারা ভয় দেখাতে চান, লম্বা-লম্বা কথা বলেন, তারা জীবনে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা দিয়েও হাঁটেননি। তাহলে তারা আমাদের রাজপথের ভয় দেখাবেন কীভাবে!’

জেপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে আমরা রয়েছি। এখানে আরেকটা স্বাধীনতাযুদ্ধ হবে। রাস্তায় হয়তো সংঘাত হবে। তবে সেই যুদ্ধেও এখন যারা ক্ষমতায় তারাই জিতবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ভূরাজনীতির যে গতিপ্রকৃতি, সেখানে অন্যরা চাইলেও কিছু হবে না। ভালো-মন্দ যা-ই হোক, এর বিকল্পও নেই।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কপাল এতই ভালো যে সেখানে প্রতিযোগিতা করেও অন্য কেউ কিছু করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না আল্লাহ কিছু করেন। আমাদের সরকারপ্রধানের কপালের দিকে তাকালেই দেখবেন, এরকম কপাল আর অন্যদের দেখবেন না।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল থাকে রাজনীতি করার জন্য। রাজনীতি করলে ক্ষমতায় থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বর্তমানে রাজনীতির অবস্থা ভালো না, একথা বলতে পারব না। ছয় মাস বা এক বছর পর রাজনীতি ভালো হবে, এটাও বলতে পারব না। নির্বাচনের রাজনীতিতে আগামীতে কী হবে, সেটি চিন্তা-ভাবনার বিষয়। আগামীতে জোট-মহাজোট হবে কি না, কেউ কাউকে ডাকবে কি না, ডাকলেও যাবে কি না—এগুলো চিন্তার ব্যাপার। চিন্তা-ভাবনা করে রাজনীতি করতে হবে। দেশে এত জ্ঞানীগুণী মানুষ রয়েছেন, সত্যিই আমরা একটা অন্ধকারময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দলের নেতাদের উদ্দেশে জেপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে সাহস থাকতে হবে। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের প্রথমে জিএস ও পরে ভিপি ছিলাম, তখন আমাদের হলেই সর্বপ্রথম তত্কালীন ক্ষমতাসীনেরা মার খেয়েছিল। সে কারণে বলি, কী পেয়েছি কী পাইনি, সেই অঙ্কে না গিয়ে বুকে সাহস থাকতে হবে। নিজেদের সংগঠন থাকতে হবে। সংগঠন না থাকলে অবস্থা আরো খারাপ হবে।’

দলীয় নেতাদের উদ্দেশে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, ‘একসময় জ্ঞানীগুণীরা বলতেন, দেশে দুটি ধারা। কিন্তু আল্লাহর রহমতে জেপি ২১ বছর ধরে টিকে আছে, সম্মানের সঙ্গেই আছে। আমরা ২১ বছর টিকে থাকতে পারব—এটাও অনেকে কল্পনা করতে পারেননি। তাই আপনাদের বলব, জেপিই নিরাপদ, সংগঠনকে শক্তিশালী করুন।’

আরও পড়ুন: ভোক্তাদের জিম্মি করে সিন্ডিকেট লুটে নিল কয়েক হাজার কোটি টাকা

প্রতিনিধি সভায় স্বাগত বক্তব্যে জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, জেপি নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক দল। আগামী ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দলের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলকে সর্বাত্মক সফল করতে তিনি দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন

সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম, শাহ মো. রফিকুল বারী চৌধুরী, এ এইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ মল্লিক, মফিজুল হক বেবু, আবু সাঈদ খান, এজাজ আহমেদ মুক্তা, রুহুল আমিন ও নাজমুন্নাহার বেবী, নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান আজিজ বাঙাল, মীর হারুনার রশিদ, অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মিরন, শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, মোহাম্মদ হোসেন রেনু, আফজাল হোসেন, জাহানারা আরজু ও কাজী জাহাঙ্গীর আমির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, ইফতেখার আহমেদ লিমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেহ আলী টিপু, জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।

জেলা নেতাদের মধ্যে যারা বক্তব্য রেখেছেন

চা-বিরতির পর প্রতিনিধি সভায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতারা বক্তব্য রাখেন। দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকীর পরিচালনায় এ পর্বে জেলা নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি হাজী মো. আব্দুল্লাহ, মেহেরপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হালিম, পাবনা জেলার শাহনা পারভীন কেয়া, নরসিংদী জেলার আহ্বায়ক ওসমান গণি, টাঙ্গাইলের আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার, বান্দরবানের কাজী মো. নাসিরুল আলম, ঝালকাঠি জেলা থেকে অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, মাগুরার ফতেহ আলী টিপু, খুলনার অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, বাগেরহাটের অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরের ডা. বেলাল মৃধা ও মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, সিলেটের ইফতেখার আহমেদ লিমন, কুড়িগ্রামের রুহুল আমিন (সাবেক এমপি), মানিকগঞ্জের আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ

আগামী ৪ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলকে সামনে রেখে প্রতিনিধি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যেসব জেলায় দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে সেসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমাদান, ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি ও জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘মুজিব বর্ষ’ উদ্যাপনে কর্মসূচি গ্রহণ এবং গঠনতন্ত্রে সংশোধনীর প্রস্তাব ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে প্রেরণ।

ইত্তেফাক/এসইউ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন