ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে লাল-সবুজে সেজেছে শিবচর

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে লাল-সবুজে সেজেছে শিবচর
দুই ভাই নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। ছবিঃ ইত্তেফাক।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শিবচরকে যেন লাল-সবুজের শাড়ি পরানো হয়েছে! শহরের রাস্তাঘাট, দেওয়াল, দোকানপাট সব লাল-সবুজে সজ্জিত হয়েছে। আর এমন রূপে সজ্জিত করার কাজটি করেছেন বর্তমান জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের টানা ৬ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর কোষাধক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মরহুম ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী (দাদাভাই) সুযোগ্য দুই উত্তরসূরী রেখে গেছেন। তারা হলেন টানা ৬ বার নির্বাচিত সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ও ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসন থেকে টানা ২ বার সফল সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। তারা দুইজন তাদের উন্নয়ন আর ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নিয়েছে নিজ নিজ এলাকার কয়েক লাখ নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণী মানুষের হৃদয়সহ দেশ-বিদেশে থাকা কোটি বাঙালির হৃদয়।

জানা যায়, ভৌগলিক কারণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাটি বহুল পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই উপজেলার বীর সন্তানদের রয়েছে অনন্য অবদান। তৎকালীন প্রাদেশিক সরকারের এমপি বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী দাদাভাই ছিলেন মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তার দিক নির্দেশনাতে শিবচর থেকে পার্শ্ববর্তী ৯ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মরহুম ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী দাদাভাইয়ের বড় ছেলে বর্তমান চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের উদ্যোগ দেশে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উপজেলাটিতে ঢুকতেই একের পর এক সেতু লাল সবুজের রংয়ে ঢাকা। বঙ্গবন্ধুর বড় বোন চৌধুরী ফাতেমা বেগম পৌর অডিটোরিয়ামের সামনে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রবাহমান ৭১ ভাস্কর্য, কলেজ মোড়ে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বাধীনতা স্তম্ভ ’৭১, শহরে প্রবেশমুখের সড়কে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ।

পৌরবাজারে দীর্ঘ একটি সড়ক নামকরণ করা হয়েছে সড়ক -৭১, যেখানে লাল সবুজ রংয়ে সজ্জিত শতাধিক দোকানও রয়েছে। উপজেলা পরিষদের সামনে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য।

শহীদদের কবরের পাশে তৈরি করা হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ। যেখানে স্থানীয় ১৩ জন শহীদদের নামসহ যুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছার এক অসাধারণ ভাস্কর্য।

এছাড়া ৭১ চত্বর, বিজয় চত্বর, বরহামগঞ্জ চত্বর, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সভবনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালসহ অসংখ্য মুর‌্যাল। একেকটি ভাস্কর্য, মুর‌্যালই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহন করে।

বিভিন্ন রাস্তা ঘাট শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামকরণ, স্কুলের বিভিন্ন ভবন মুক্তিযোদ্ধাদের নামকরণ, বিভিন্ন সেতু মুক্তিযোদ্ধাদের নামকরণ রয়েছে অহরহ। বিভিন্ন বাজারের দোকানপাটও লাল সবুজ সাজে সজ্জিত। সব মিলিয়ে এ যেন জাতীয় পতাকার লাল সবুজের সমারোহ ও ভাস্কর্য সমৃদ্ধ এক উপজেলা।

এ সকল স্মৃতি স্তম্ভে বিশেষ দিবসে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানানোয় প্রসার ঘটছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের। রাজনৈতিকভাবেও এ উপজেলার নেতৃত্বে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। অপরদিকে মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী শিবচর থেকে ভাঙ্গায় বাড়ি করে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন মানুষের ভালোবাসা পেয়ে স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচত হন। পরে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন আর মানুষকে ভালোবেসে জয় করে নেন মানুষের হৃদয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আবারো দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচত হন।

সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীরা তিন উপজেলা (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন ) থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসনের জনগণ কোন প্রতীক বোঝে না। তারা বোঝে নিক্সন চৌধুরীকে।

ভাস্কর্য শিল্পী মানিক বিশ্বাস বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে যে ধরনের উদ্যোগ নেই তা শিবচরে আছে। সত্যিই শিবচর সারাদেশে দৃষ্টান্ত।’

সিনিয়র সাংবাদিক প্রণব কুমার সাহা অপূর্ব বলেন, ‘যোগ্য বাবার যোগ্য দুই উত্তরসুরি এমপি লিটন ও নিক্সন চৌধুরী মহোদয় তাদের উন্নয়ন আর ভালোবাসা দিয়ে মানুষে হৃদয় জয় করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

সদ্য যোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি দেশের অনেক স্থানে দায়িত্ব পালন করেছি। তার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে শিবচরকে আমার কাছে ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিবচর ও চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন সারাদেশে দৃষ্টান্ত হতে পারে।’

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আলমের দাফন সম্পন্ন

শিবচরের কৃতি সন্তান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো। মুনির চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক দাদাভাইয়ের সুযোগ্য উত্তরসুরি বর্তমান চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন শিবচরকে সারাদেশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধময় এক শহরে রূপ দিয়েছেন। তাই সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে লিটন চৌধুরীর শিবচরকে মডেল হিসেবে নেওয়া উচিত।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন