জামাল নজরুল ইসলাম (জে এন ইসলাম) একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ।
আধুনিক বিশ্বের সাতজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর নাম নিলে জামাল নজরুল ইসলামের নাম চলে আসে অনায়াসেই। অনেক বিজ্ঞানী বাংলাদেশকে জে এন ইসলামের দেশ হিসেবেই চেনে। কেমব্রিজে পড়ার সময় জে এন ইসলাম ছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের রুমমেট। ছিলেন বন্ধু এবং সহকর্মী। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত স্টিফেন যেসব বিজ্ঞানী নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে জে এন ইসলাম ছিলেন অন্যতম। বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর নাম সবারই মনে থাকার কথা—প্রথম রেডিও আবিষ্কার করলেও ক্রেডিট নিয়ে নিয়েছেন মার্কনি। ঠিক তেমনি স্টিফেন হকিংয়ের ব্লাক হোল নিয়ে যে মাতামািত, যে উন্মাদনায় মত্ত হয়েছে বিশ্বের লোকজন, লজ্জায় মাথ নত হতো যদি তারা জানত বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘কৃষ্ণ বিবর’ গ্রন্থটি ব্লাক হোল থিউরির অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হতো।
জে এন ইসলামকে বলা হয় আধুনিক পৃথিবীর মেধাবী মানুষ। এর দুটি উদাহরণ হলো : এক. কেমব্রিজের ট্রিনিটি থেকে গণিতে ট্রইপস পাস করতে সময় লাগে তিন বছর, জে এন ইসলাম তা দুই বছরে শেষ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। দুই. ২০০১ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে একটি গুজব রটেছিল। বাংলাদেশেও এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় জামাল নজরুল ইসলাম গণিতের হিসাব কষে দেখান যে, সে রকম সম্ভাবনা নেই। কারণ প্রাকৃতিক নিয়মে সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ এক সরলরেখা বরাবর চলে এলেও তার প্রভাবে পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হবে না।
জে এন ইসলাম মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ক্যালকুলেটর ব্যবহারে ছিল তাঁর অনীহা। গাণিতিক হিসাব মাথা খাটিয়ে করতে পছন্দ করতেন। তাঁর চিন্তার অনেকখানি জুড়ে ছিল দেশ ও সমাজের উন্নতি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ। নিজের আয় থেকে কিছু অর্থ জমিয়ে দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন।
১৯৭১ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর এই পরোক্ষ অবদান ও পরবর্তীকালে দেশে ফিরে আসা থেকে তাঁর দেশপ্রেমের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বিদেশে পড়াশোনা করছে এমন সব শিক্ষার্থীকেই পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আসতে উত্সাহিত করতেন।

