ইয়াবা-ফেনসিডিলে বৃত্তবন্দি জীবন

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫০

পিনাকি দাসগুপ্ত

মাদক চোরাচালান ও মাদকের অপব্যবহারবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৫ সালের ২২ মার্চ। সোনারগাঁও হোটেলে এ বিষয়ে দুদিনব্যাপী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ঐ সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ফেনসিডিলের কতগুলো কারখানা আছে সেগুলোর তালিকা ও মালিকদের নাম ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশে ফেনসিডিল চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের নাম সরবরাহ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি আরোপের ফলে ফেনসিডিল সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে এসেছিল। তবে ফেনসিডিল সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে সেবীরা ঝুঁকে পড়ে ইয়াবার দিকে। ফলে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ইয়াবার সরবরাহ। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্ঘলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্ততর ২০১৮ সালের ৪ মে একযোগে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্যে জানায় যায়, এ অভিযানে র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রায় ৪০০ মাদক কারবারি নিহত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে দুই লক্ষাধিক মাদক কারবারি। কমে আসে ইয়াবার সরবরাহ। ফলে ইয়াবা সেবীরা ফের ঝুঁকে পড়ে ফেনসিডিলের দিকে। আর ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণেই রাজধানীতে বিভিন্ন পথে, নানা কৌশলে আনা হচ্ছে ফেনসিডিলের চালান। সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিল বহনকারী মিনি ট্রাকসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিল। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে—রকি বাবু ও মো. সাখাওয়াত।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দিনাজপুরের হিলির সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল ক্রয় করে কাঠের আড়ালে মিনি ট্রাকযোগে ঢাকায় নিয়ে আসত। এরপর দারুস সালাম ও মিরপুর থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করত। এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা মূলত বহনকারী। ফেনসিডিলের আসল মালিকের নাম ঠিকানা আমরা জানতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, রাজধানীতে ফেনসিডিলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বোতল ফেনসিডিল সীমান্ত এলাকা থেকে ক্রয় এবং ঢাকা পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ পড়ে ৫০০ টাকা। তবে ঢাকায় প্রতি বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় ২ হাজার টাকায়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো, উত্তর) সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম ফেনসিডিলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেনসিডিলের সরবরাহ পুরোপুরি কখনোই বন্ধ হয়নি। তবে ফেনসিডিল সেবীর সংখ্যা অনেকটা কমেছে। তিনি বলেন, চাহিদা থাকার কারণে ফেনসিডিল সরবরাহ বন্ধ হয়নি। আর এ কারণে মাদক কারবারিরা ধরন পালটিয়ে সুকৌশলে রাজধানীতে ফেনসিডিলের সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। যেসব চালান ধরা পড়ছে তা সোর্সের দেওয়া তথ্যমতেই ধরা পড়ছে। তিনি আরো বলেন, যশোর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আসছে। চাহিদা যেহেতু রয়েছে, সে কারণে পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।