মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে চাই আদর্শ মান ও জবাবদিহিতা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ২২:২৭

মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নকারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এনজিও প্রতিনিধিরা মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে যথাযথ আদর্শ মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেছেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য জরুরিভিত্তিতে মানবিক কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়। আর এসব কর্মকাণ্ড জরুরিভিত্তিতে গ্রহণ করা হয় বলে সেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এতে করে দুর্যোগকবলিত মানুষ আরো ঝুঁকির সম্মুখীন বা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হতে পারেন। তাই মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে আদর্শমান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এখনই সময়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে আদর্শ মান ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কোস্ট ট্রাস্ট, স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ, নিরাপদ, নাহাব এবং ডিজাস্টার ফোরাম বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মূল আলোচক হিসেবে এইচকিউএআই-এর নির্বাহী পরিচালক পিয়েরে হসেলম্যান বলেন, মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সিএইচএস অ্যালায়েন্সের নয়টি মূল আদর্শমান রয়েছে যেগুলোকে আমরা মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। সার্টিফিকেশন পাবার ক্ষেত্রে অডিট ফি বেশি হলেও ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সাবসিডির ব্যবস্থা রয়েছে এবং ছোটো ছোটো সংস্থাগুলো যৌথভাবেও সার্টিফিকেশনের জন্য আবেদন করতে পারে। এতে তাদের অডিট খরচ অনেকটাই কমে যাবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুন-অর-রশীদ মোল্লাহ বলেন, মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর সার্টিফিকেট প্রদানের ব্যবস্থা থাকা ভালো তবে তিনি অডিট প্রতিষ্ঠানকে ফি কমানোর জন্য বলেন যাতে করে অধিক সংস্থা এ সার্টিফিকেট ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।

ইউএনআরসির হিউম্যানিটারিয়ান এক্সপার্ট কাজী শহিদার রহমান বলেন, অডিটের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি।

নাহাবের সভাপতি ড. এম এহসানুর রহমান বলেন, এখন সবাই কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কিন্তু এই মুহূর্তে যদি দেশে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে সেক্ষেত্রে আমরা কিভাবে মোকাবিলা করব তারও প্রস্তুতি আমাদের থাকা দরকার।

কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম মুসা বলেন, আমরা দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য কাজ করি। সার্টিফিকেট অর্জনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে ভালো মটিভেশন আর কি হতে পারে?

ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকেব নবী বলেন, এইচকিউএআই সনদ পাওয়া কষ্টসাধ্য বিষয় কিন্তু সেটাকে চলমান রাখাও অনেক বেশি কষ্টসাধ্য। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানবিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।

ব্র্যাকের পরিচালক কে এ এম মোরশেদ বলেন, দক্ষতার সাথে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংস্থার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা এই সার্টিফিকেট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।

সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন, ডিজাস্টার ফোরাম বাংলাদেশের গওহর নঈম ওয়ারা, স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সাজিদ রায়হান প্রমুখ। কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে এইচকিউএআই-এর অডিট অভিজ্ঞতা ও সনদ প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের মো. ইকবাল উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফ্রান্সিস অতুল সরকার, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রফিকুল আলম ও সাজেদা ফাইন্ডেশনের ফজলুল হক।