নয়ন বন্ড অস্ত্রের মুখে একটি বইয়ের পৃষ্ঠায় আমার স্বাক্ষর নিয়েছিল :মিন্নি

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২২:১৪

বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন বন্ডের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরের কোনো একদিন নয়ন বন্ড তার সহযোগীদের নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বইয়ের পৃষ্ঠায় আমাকে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়। আমি প্রাণের ভয়ে স্বাক্ষর করি। সে বইখানা কাজীর রেজিস্টার না অন্য কিছু এটা দেখার বা বোঝার সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সেখানে কাজীর মতো কাউকে আমি দেখিনি। স্বাক্ষর নেওয়ার পর এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নয়ন বন্ড আমার ছোট ভাই ক্যালিক্স একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আবদুল মুহিত কাফিসহ (৭) মা ও বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়। আজ বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে সেটা নাকি কাবিন রেজিস্টারের বালাম বই। এই ঘটনার পর প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে আমার পরিবারের সাহস হয়নি । ঐ ঘটনার সময় আমার আশপাশে ছিল সম্পূর্ণ অচেনা কতগুলো মুখ । মিন্নি আরো বলেন, ওই ঘটনার প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর রিফাত শরীফের সঙ্গে প্রকাশ্যে বরগুনার আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মসজিদে আসর নামাজ বাদ বহু আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে বরগুনা পৌরসভার কাজী আবদুর রহিমের মাধ্যমে আমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে নয়ন বন্ড কখনো আমাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেনি শুধু আমার ছোট ভাই কাফিকে হত্যার হুমকি দিত। মিন্নি প্রশ্ন করেন, আমার বিয়ের সময় কোথায় ছিল নয়ন বন্ড?

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, তার স্বামীর হত্যাকারীদের রক্ষা করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি তাদের উদ্দেশে করজোরে মিনতি করে বলেন, আমার স্বামী সদ্য নৃশংসভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে, সারাদেশ শোকে মুহ্যমান, এসময় আমার পাশে না থেকে হত্যাকারীদের রক্ষা করতে এমন অপপ্রচার চালাবেন না।

বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্টার কাজী আনিসুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, মিন্নি ও নয়নসহ ১৫-২০ জন যুবক বিয়ে পড়ানোর জন্য আমার দপ্তরে আসে। বয়স প্রমাণের কাগজপত্র দেখে সঠিক নিয়মে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। মিন্নির বাবা মা ও অভিভাবকদের কথা জিজ্ঞাসা করলে যুবকদের একজন মোবাইল ফোনে মিন্নির মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন, মোবাইলের অপর প্রান্তের মহিলা আমাকে বলেন, এ বিয়েতে মিন্নির বাবা রাজি নয়, আমি মা হিসেবে বিয়ের অনুমতি দিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে কাজী সাহেব বলেন, অপর প্রান্তের মহিলা মিন্নির মা কি না, তা যাচাই করার সুযোগ আমি পাইনি বা আমাকে দেওয়া হয়নি।

মিন্নির পিতা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি ও আমার পরিবার বিপর্যস্ত। একটু সুস্থ হয়েই কাজী আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করব।