‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন’কে আমরা সংক্ষেপে ইউজিসি বলে উল্লেখ করে থাকি। দেশের উচ্চশিক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউজিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উচ্চশিক্ষার বিষয়টি দেখভাল করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইউজিসি আছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইউজিসি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানে ইউজিসির কোনো রকম অস্তিত্ব ছিল না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উচ্চশিক্ষা প্রসারের বৃহত্তর স্বার্থে ইউজিসি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মনে করতেন, উন্নত জাতি গঠনের জন্য উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পাকিস্তানের করাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে মাত্র এক মাসের কম সময়ের ব্যবধানে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রতিষ্ঠা করেন। ইউজিসির বিধানে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টি লিপিবদ্ধ আছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইউজিসি যথাযথভাবে এ দায়িত্ব পালন করে আসছে। ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন-২০১৯ অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির দিকে তাকালেই অনুমান করা যায়, ইউজিসি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত যত্নসহকারে ২০১৯ প্রতিবেদনটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে। মূল প্রতিবেদনটি বেশ দীর্ঘ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫৬৮। তবে বিষয়টি সহজবোধ্য করে তোলার লক্ষ্যে পাশাপাশি প্রতিবেদনের একটি সারসংক্ষেপও প্রকাশ করা হয়েছে। সারসংক্ষেপের পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫২।
সরকারি আদেশ অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই আছে। সেই আদেশ প্রতিষ্ঠানগুলো মেনে চলছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। তবে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশের সরকারি আদেশটি গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে, ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ তার প্রাক্কথনে উল্লেখ করেছেন, ‘উচ্চশিক্ষার পরিধি ও ব্যাপ্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে উচ্চশিক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা ইউজিসির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে মাত্র ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তখন জন্ম হয়নি। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১টিতে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫১ জন। প্রধান সম্পাদক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের মতে, ‘এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তোলার মাধ্যমে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০, রূপকল্প ২০৪১ ও শত বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান ২১০০) বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’ (পৃষ্ঠা ৫)
উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে ইউজিসি নানা বিষয় ভাবছে। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে ইউজিসির কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৬৮ ভাগ কর্মক্ষম। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমেই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। দেশের এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন শিক্ষার নানামুখী সংস্কার এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন, ফলভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় অধিকতর গুরুত্ব আরোপ, গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাণিজ্যিকীকরণ ও ইউনিভার্সিটি ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন দরকার। বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ সাধনে ইউজিসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের উচ্চশিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর জন্য উচ্চশিক্ষার কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৮-২০৩০ বাস্তবায়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা সুসংহত হবে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্পসমূহ বাস্তবায়নের কাজ তরান্বিত হবে।’ (পৃষ্ঠা ৪)
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও উত্কর্ষ সাধনের লক্ষ্যে ইউজিসি ২৪টি সুপারিশ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। তাদের কতিপয় সুপারিশের প্রতি আমরা দৃষ্টি দিতে পারি। ১ নম্বর সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে পাবলিক ও বেসরকারি মিলে ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউজিসির যে আইনি ক্ষমতা দরকার, তা বিদ্যমান আইনে অনুপস্থিত। তাছাড়া উচ্চশিক্ষার পরিধি ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউজিসির বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে সামগ্রিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারক করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির স্পষ্ট বক্তব্য—আর্থিক বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং আইনি ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউজিসির সক্ষমতা সম্প্রসারণ ও যুগোপযোগী করা জরুরি। ইউজিসির এই দাবি অত্যন্ত যুক্তিসংগত। ইউজিসির হাতে যদি কোনো রকম আইনি ক্ষমতা না থাকে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির কোনো কথাই কানে তুলবে না। তেমনটি আমরা লক্ষ করছি। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির আদেশ-নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে চলেছে। আইনি ক্ষমতা না থাকায় ইউজিসি অসহায় বোধ করছে।
ইউজিসির অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে তাদের ১২ নম্বর সুপারিশে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়ের জন্য অবশ্যই সরকারি বিধিবিধান শতভাগ অনুসরণ করা জরুরি। ইচ্ছেমতো আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের বিদ্যমান আর্থিক নিয়মাবলির ব্যত্যয় ঘটছে, যা কমিশনের নিকট পরিদৃষ্ট হয়েছে।’ সমস্যাটি ইউজিসি ধরতে পেরেছে, কিন্তু আইন ভঙ্গের জন্য কোনো রকম শাস্তি বিধানের ক্ষমতা ইউজিসির নেই। কাজেই ইউজিসি এক্ষেত্রেও ক্ষানিকটা অসহায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হয়তো সত্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের স্বায়ত্বশাসনের দোহাই দিয়ে নানা রকম আর্থিক অনিয়ম করে যাচ্ছে। ইউজিসি তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছে না। বরং কিছু করতে গেলেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধিকল্পে ইউজিসি কর্তৃক প্রণীত শিক্ষক নিয়োগ (পদোন্নতি) পদোন্নয়নের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণী নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।’ (পৃ. ৯)
দেশের বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্যকালীন কোর্স খুলে শিক্ষাদান করে যাচ্ছে। এটি দৃষ্টিকটু। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মাননীয় চ্যান্সেলর সান্ধ্য কোর্সের মাধ্যমে পঠন-পাঠনের বিরুদ্ধে তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, ইউজিসি সান্ধ্য কোর্সের বিরোধিতা করেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা ভ্রুক্ষেপ করছে না। ইউজিসির হাতে যদি কোনো আইনি ক্ষমতা না থাকে, সে ক্ষেত্রে ইউজিসিকে কেউ মানবে না। বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার—এই তিন প্রশাসনিক পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই শীর্ষ পদসমূহ শূন্য থাকায় প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইউজিসির মতে, ‘এই তিন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক এক্সেলেন্স, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ এর সঙ্গে আমি যুক্ত করতে চাই—যিনি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার হবেন, তাদের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এসব গুণ নেই এমন কথা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব না থাকলে শিক্ষক সমিতি সুশৃঙ্খলভাবে চলছে কেমন করে? বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদসমূহ ঠিকমতোই তো শিক্ষকদের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। তেমন কিছু অরাজকতার কথা সেখানে শোনা যায় না। আমার তো মনে হয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব দেওয়া আরো কঠিন কাজ। কথাগুলো আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ট্রেজারার, সদস্য পদে দীর্ঘদিন অধিষ্ঠিত ছিলাম। কাজেই আমার পক্ষে তুলনামূলক বিশ্লেষণ সহজ। যে সমস্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি পরিচালনা করেছেন, অনুষদের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আমার মতে, তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সে বিবেচনায় বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য হওয়ার মতো যোগ্য শিক্ষকের কোনো ঘাটতি নেই।
আমরা লক্ষ করেছি, উপাচার্য হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের ঘাটতি আছে এমন কথা বলে একই উপাচার্যকে দ্বিতীয়বারের মতো উপাচার্য করা হচ্ছে। এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়বার যাকে উপাচার্য করা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সম্মান নিয়ে সময়কাল অতিক্রম করতে পারেন না। কাজেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো উপাচার্যকেই দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব না দেওয়াই উত্তম পথ। এ ব্যাপারে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রতিবেদনের ১৭ নম্বর সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হয়রানি ও ব্যয় কমাতে ’৭৩-এর অধ্যাদেশ বা আইনের অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টিও এই সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।’ ব্যবহূত বাক্যগুলো থেকে বোঝা যায়, ইউজিসির আইনি ক্ষমতা কতটা দুর্বল। ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ইউজিসি চিহ্নিত করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইউজিসি শুধু পরামর্শ দিতে পারে, বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও তারা সাহসের সঙ্গে বলতে পারছে না—‘দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।’ সম্ভবত এটুকু কথা বলার স্বাধীনতাও ইউজিসির নেই। যেভাবেই হোক, ইউজিসি এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আমাদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে, তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কাজটি খুব সহজ নয়।
ইউজিসি যদি আজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্স বন্ধ ঘোষণা করে, উপাচার্যদের নিয়োগ দুর্নীতির কথা বলে যদি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে, বলবে ইউজিসি অনধিকার চর্চা করছে। ১৯৭২ সালে ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় তত্ত্বাবধানের জন্য যে ইউজিসির জন্ম হয়েছিল, সেই ইউজিসিকে ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধান করতে হচ্ছে। ইউজিসির অর্থবল, জনবল, অবকাঠামো বৃদ্ধি না করতে পারলে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলা করা ইউজিসির জন্য অসম্ভব। এ অবস্থা চলতে থাকলে ইউজিসির কাছে জাতির যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণ হবে না।
n লেখক :সাবেক ভিসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

