বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
২৮ °সে

রমজানুল মোবারক

রোজার কল্যাণে পরিশুদ্ধ হোক আত্মা

রোজার কল্যাণে পরিশুদ্ধ হোক আত্মা
রোজার কল্যাণে পরিশুদ্ধ হোক আত্মা

আল্লাহপাকের কৃপায় পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশকের প্রথম রোজা সুস্থতার সাথে আমরা পালন করার সৌভাগ্য পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহতায়ালার দরবারে দোয়া করি তিনি যেন মুসলিম উম্মার রোজা গ্রহণ করে বিশ্বকে মহামারি করোনার আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভালোবাসা লাভ করার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো রোজা। কেননা রোজা কেবল মাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রাখা হয় আর এর পুরস্কারও স্বয়ং আল্লাহতায়ালাই দিয়ে থাকেন। রমজানের ফরজ রোজা বা অন্যান্য দিনের নফল রোজা, যে রোজাই হোক না কেন তা আমাদের আত্মার সংশোধনের কারণ হয়ে থাকে। আর বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানের রোজা আমাদের পুরো বছরের দোষত্রæটি ক্ষমার কারণ হয়।

কেননা, মানুষ যখন আল্লাহতায়ালার জন্য জাগতিক আরাম-আয়েশ, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি থেকে বিরত থাকে তখন সে তার নফসকে পুণ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখতে অধিক শক্তি পায়। কিন্তু এ বিষয়টি স্মরণ রাখা উচিত, রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস থাকাই নয়। যদি উপবাস থাকার ফলে খোদার জান্নাত পাওয়া যেত তাহলে প্রতিটি ব্যক্তি এ জান্নাত পাওয়ার চেষ্টা করতো। কেননা উপবাস থেকে মৃত্যু বরণ করে নেয়াটা তেমন কোন কঠিন বিষয় নয় বরং কঠিন বিষয় হলো আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক পরিবর্তন সাধন করা।

আমরা প্রায় দেখি, মানুষ তার অধিকার আদায়ের জন্য আমরণ অনসন করে থাকে, দিনের পর দিন না খেয়ে থাকে। অতএব অনাহারে থাকা কোন কঠিন বিষয় নয়। মানুষ ইচ্ছে করলে সারা দিন না খেয়ে কাটাতে পারে। কিন্তু না খেয়ে থাকায় আল্লাহর কাছে তার কোন গুরুত্ব নেই আর এমনটি করাও পবিত্র রমজানের উদ্দেশ্য নয়। রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, মানুষের নাফস অর্থাৎ আমাদের আত্মা যেন পবিত্র হয়।

কেননা আল্লাহ পরম পবিত্র আর তিনি পবিত্র আত্মার অধিকারীদেরকেই ভালোবাসেন। তিনি চান মানুষ যেন রোজার মাধ্যমে সকল প্রকার পাপ কাজ পরিহার করে হৃদয়কে পাক পবিত্র এবং পরিস্কার করে ধৌত করেন। এমন হৃদয় যে হৃদয়ে খোদার জ্যোতির বিকাশ ঘটবে। এছাড়া এই রোজার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক, চারিত্রিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক সকল প্রকার কল্যাণও লাভ হয়। যেভাবে বাহ্যিক খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শারীরিকভাবে শক্তি লাভ করি ঠিক তেমনি রোজার ফলে আমাদের রুহ বা আত্মায় শক্তি লাভ করে আর এই শক্তির বলে একজন মুমিন তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে।

মোটকথা, রোজা শারীরিক সুস্থতারও কারন আর আধ্যাত্মিক দিক থেকেও এর অনেক কল্যাণ রয়েছে। রোজার মাধ্যমে আমরা অনেক ধরনের মন্দ থেকে বাঁচতে পারি এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারীও হতে পারি। কানজুল উম্মালের এক হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে জেনে বুঝে পাপ করে বা কোন মুমিনকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে, কোন নেশাদ্রব্য ব্যাবহার করে তাহলে আল্লাহতাআলা তার সমস্ত আমলকে নষ্ট করে দিবেন। সুতরাং তোমরা পবিত্র রমজান মাসে খোদা ভীতি অবলম্বন কর। কেননা এটি আল্লাহতায়ালার পবিত্র মাস’ (কানজুল উম্মাল)।

তাই আমাদের উচিত হবে, রমজানের এ দিনগুলোতে কোনো ধরনের পাপ কাজ যেন না করি। এছাড়া শুধু রমজানে কেন বছরের প্রতিটি দিনই যেন রমজানের ন্যায় অতিবাহিত করি।

রমজান থেকে আমরা এ অঙ্গীকার করবো যে, আমরা কারো অধিকার হরণ করবো না, কারো সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হবো না, ব্যবসায় কাউকে ঠকাবো না, অধিক মূল্য রাখবো না।

আমি যেখানে বা যে স্থানেই কাজই করি না কেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে করবো এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ না দেখে সবার জন্য মঙ্গল কামনা করবো।

আমরা যদি পবিত্র রমজানে এ ধরণের অঙ্গীকার করি তাহলে আমাদের রোজা প্রকৃতই আল্লাহর জন্য হবে এবং আমাদের আত্মার সংশোধনের কারণ হবে।

মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে পবিত্র এ রমজানের দিনগুলো সঠিকভাবে ইবাদত বন্দেগিতে রত থেকে এবং নিজ আত্মার সংশোধন করে নেয়ার সৌভাগ্য দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত