কাতার গিয়ে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কত পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাফুফে খেলোয়াড়দের সুযোগটা করে দিতে পারেনি। পুরোনো এসব কথা ভুলে কাতার গিয়ে কোচ জেমি ডে পুরো দমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অনুশীলনে। কাতারের আবহাওয়া একটি ফ্যাক্টর হলেও এই আবহাওয়ায় খেলতে হবে।
ফুটবল দল এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৩ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইয়ের ম্যাচ। তিনটি ম্যাচ খেলবে।
ম্যাচের আগে ফাঁকফোকরগুলো ঝালাই করে নিচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল দল লক্ষ্য রাখছে গোলপোস্টে। কাতারে তিন প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ভারত এবং ওমান শক্তিশালী দল। এই সব দলের বিপক্ষে গোলপোস্টে যেন ছিদ্র না থাকে তা নিয়ে কাজ করছেন কোচ।
গোলপোস্টে আবাহনীর সোহেল, বসুন্ধরা কিংসের জিকো এবং রহমতগঞ্জের লিটন রয়েছেন। এদের মধ্যে কাকে একাদশে নামানো হবে তা নিয়ে কোচকে কঠিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে।
জাতীয় দলের গোলকিপিং কোচ সোহেল, জিকো, লিটনদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
মাঝ মাঠে সোহেল রানা, জামাল ভুঁইয়া, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি রয়েছেন। মাঝ মাঠ নিয়ে দুর্ভাবনা কম কোচের। রক্ষণ ভাগে বিশ্বনাথ, সাদ উদ্দিন ইনজুরিতে দলে নেই। ধরা হচ্ছে তারিক কাজি এবার একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন। তার জন্য কঠিন পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে কাতার সফর। তারিক কাজী সুযোগ পাবেন এমন আভাস ঢাকায় দল থাকতেই শোনা গেছে। রক্ষণে তপু বর্মন ফিরলেও তিনি ইনজুরি কাটিয়ে এসেছেন। ভয়ডরহীন খেলতে পারলে ভালো। না হলে তার কাছ থেকে পুরো সার্ভিস পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। স্ট্রাইকিং পজিশনে সুমন রেজা এবং মতিন মিয়ার জন্য দরজা খুলছে। এই দুই স্ট্রাইকার জাতীয় দলের জন্য কঠিন পরীক্ষা দেবেন।
ম্যাচ জিততে হলে গোল করতে হবে এমন লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন হয়েছে। গোল না করতে পারলে ম্যাচ জেতা যাবে না। এ কথাটা বার বার করে কোচ মনে করিয়ে দিয়েছেন তার খেলোয়াড়দের। সল্ট লেকে ভারতের বিপক্ষে গোল করে ম্যাচটা ড্র হয়েছিল। এই ম্যাচেও বাংলাদেশ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিল। তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও বাংলাদেশ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। অমার্জনীয় সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছিল ম্যাচ হেরে। আফগানিস্তান সেবার কোনো রকমে জিতলেও এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে নামবে। বাংলাদেশকে কোনো সুযোগও দেবে না।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল সিলেটে। কিন্তু এএফসি ম্যাচ নিয়ে টালবাহানা করে এবং বাফুফেও এই ম্যাচে আফগানিস্তানকে বাংলাদেশে আনতে পারেনি। অথচ আফগানিস্তানের ম্যাচ তাজিকিস্তান গিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাংগঠনিক শক্তি থাকাটা দরকার। যেটা অন্যরা পেরেছে।
ইত্তেফাক/টিআর

