স্বপ্নময় স্বপ্নপুরী করোনা নিরানন্দ করেছে

স্বপ্নময় স্বপ্নপুরী করোনা নিরানন্দ করেছে
স্বপ্নপুরী।ছবি: ইত্তেফাক

বিনোদন ও পিকনিকের জন্য এক অসাধারণ ও অনির্বাচনীয় কেন্দ্র স্বপ্নপুরী। শীত ও অন্যান্য সময় স্বপ্নময় স্বপ্নপুরীতে দর্শনার্থী ও পিকনিক পার্টির ঢল নামে। সেখানে একবার গেলে বার বার যেতে মন ছটফট করে। কিন্তু করোনার কারণে সেভাবে দর্শনার্থী ও পিকনিট পার্টি আসছে না। ফলে স্বপ্নপুরীর স্বপ্ন নিরানন্দ হয়ে ওঠেছে।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ৫২ কিলোমিটার এবং ফুলবাড়ি উপজেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকার প্রত্যন্ত পল্লি অঞ্চলের গহীন বনজঙ্গল ও মজা পুকুর সংস্কার করে প্রায় ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত উত্তরবঙ্গের মনোরম ছিমছাম ভ্রমণ কেন্দ্র স্বপ্নপুরী। নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, সাংস্কৃতিক ও প্রকৃতিপ্রেমী দেলোয়ার হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি পিকনিক কর্ণার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৮৯ সালে কাজ শুরু করেন।

১৯৯০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নপুরী। এই বিনোদন কেন্দ্রে রয়েছে শিশু পার্ক, চিড়িয়াখানা (যেখানে রয়েছে বাঘ, ভাল্লুক, অজগর, মদন, শকুন, বানর, বাহারি কবুতর, পাঁচ পায়ের গরুসহ বিভিন্ন প্রাণি)। কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, ঝর্ণাধারা, মিউজিয়াম, নৌবিহার, সবুজ গাছের ছায়া বিশ্রামাগার, দেশি- বিদেশি হাজারো ফুলের বাগান, সারি সারি দেবদরু গাছ, মাটিতে নেমে আসা কৃত্রিম রংধনু, শতাধিক পিকনিক কর্ণার, মাটি ও দালানের তৈরি আকর্ষণীয় কটেজ বা রেস্ট হাউজ। এছাড়া ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রামের চিত্র আর্টিফিসিয়ালের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য দেয়ালে দেয়ালে বা দর্শনীয় স্থানে মুর‌্যাল তৈরি করা হয়। এসব তদারকির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে আগত ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তাসহ সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

স্বপ্নপুরী পিকনিক কর্ণারটি ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি সমগ্র দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বছরজুড়ে প্রতিদিনই শত শত মানুষ এখানে পরিবার- পরিজন নিয়ে আসে বিনোদনের জন্য। তবে শীত মওসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পুরোদমে শুরু হয় পিকনিক পার্টির ভিড়। বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কার, মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা ভ্যান, টেম্পো এমনকি পায়ে হেঁটেও বিনোদনপ্রিয় মানুষ আসেন এখানে। কিন্ত এবছর সেই আনন্দ নেই করোনার কারণে।

স্বপ্নপুরীকে মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো সাজানোর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদী। ইতোমধ্যে ২০/২৫টি চলচ্চিত্র, নাটক ও মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে এখানে। এছাড়া দেশ-বিদেশের অনেক গুণী রাজনৈতিক, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বপ্নপুরী ঘুরে গেছেন। এ পিকনিক স্পটে শীত মওসুমে পাঁচ শতাধিক পিকনিক পার্টি আসে। শীত মওসুম ছাড়াও সারা বছরই লোকজন এখানে বেড়াতে আসেন।

লেখক: সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x