করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে কাটালেন ১০১ দিন। যার মধ্যে ভেন্টিলেটরেই ছিলেন ৬৮ দিন। তবুও তাকে দমাতে পারেনি ভাইরাসটি। সুস্থ হয়ে ছাড়লেন হাসপাতাল। দীর্ঘ এই যুদ্ধে জয়ী ব্যক্তির নাম চন্দন মণ্ডল। ভারতের পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাসিন্দা তিনি। জীবন-মরণ লড়াই শেষে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) বাড়ি ফিরেছেন চন্দন। খবর আনন্দবাজার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চন্দন করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১৮ মে স্থানীয় সেবা নার্সিংহোমে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়াইয় ২৫ মে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। ওইদিনই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে জানান চন্দনের ভাই নন্দন মণ্ডল।

হাসপাতালে প্রথম কয়েক দিন সেরকম কোনো শারীরিক সমস্যা না হলেও যত দিন যায় চন্দনের শ্বাসকষ্টের সমস্যা তত বাড়তে থাকে। এইচডিইউ-তে স্থানান্তর করা হয় তাকে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেখান থেকে আইসিইউ-তে পাঠানো হয়। কিন্তু চন্দনের শ্বাসকষ্ট বাড়তেই থাকে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, করোনার কবলে পড়ে চন্দনের ফুসফুস ফুটো।
এরপর ৩ জুন চন্দনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে দেওয়া হয়। তারপর থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ৬৮ দিনই ভেন্টিলেটরে ছিলেন চন্দন। কিন্তু এতেও রেহাই মেলেনি তার। ভেন্টিলেটরে থাকলেও ‘বাইল্যাটারাল নিউমোথোরাক্স’ অর্থাৎ চন্দনের দুটো ফুসফুসই ফুটো হয়ে যায়। ওই ফুটো দিয়ে হাওয়া বেরিয়ে জমে যায় ফুসফুসের বাইরের পর্দায়। শুধু তাই নয়, ত্বকের নিচে টিস্যুতে হাওয়া জমে গিয়ে চন্দনের অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
চিকিৎসক দেবরাজ বলেন, এ অবস্থা থেকে বেঁচে ফেরাকে মিরাকল বলা যেতে পারে। তবে ওর বয়স কম হওয়ার জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস নিয়েও সমানে লড়াই চালিয়ে গেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের রোগীর ফুসফুস প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় থাকে না।
ইত্তেফাক/টিআর

