রাজশাহী মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাপাড়ার বাসিন্দাদের বাধার মুখে মঙ্গলবার পদ্মাপাড়ের গাছকাটা বন্ধ হয়েছে। বর্জ্য রাখার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) তৈরি করতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ওই গাছগুলো কাটছিল।
এলাকাবাসী অভিযোগ, গাছগুলো ঘিরে তাদের যাবতীয় কাজ। দিনভর ছায়ার সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তো আছেই, এর ওপর গাছকে কেন্দ্র করে আশপাশের মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের লোকেরা যখন গাছগুলো কাটছিল সেই মুহূর্তে খবর ছড়িয়ে পড়লে ১৫ থেকে ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা গাছ কাটায় বাধা দেন।
এদিকে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউন্নবী এবং প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম স্থানীয়দের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে স্থানীয়রা গাছ সংরক্ষণের দাবি জানান। পরে কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে চলে যান দুই কাউন্সিলর।
আরও পড়ুন: রংপুরে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের সভা, শহরে উত্তেজনা
স্থানীয়রা জানান, সারা দিনই বিনোদনপিপাসু মানুষের ভিড় লেগে থাকে এখানে। এর পাশে আছে পদ্মা গার্ডেন নামের একটি বিনোদনকেন্দ্র ও নরওয়ের সাংবাদিক মুনসগার্ডের নামে পার্ক। এ দু’টি বিনোদনকেন্দ্রের মানুষই ঘুরতে এসে গাছের নিচে বসেন।
স্থানীয় যুবক মানিক বলেন, সারাদিন সেখানে মানুষের আনাগোনা থাকে। তাই সেখানে গাছ কেটে বর্জ্য রাখার ঘর করার উদ্যোগ কেউ মেনে নিতে পারেননি। শাহীন আলী (৫৫) বলেন, দরগা শরিফে ওরশের সময় অনেক মানুষ ওই গাছগুলোর তলায় সময় কাটায়। প্রতিদিন আগত মানুষের কারণে সেখানে ভ্রাম্যমাণ কিছু খাবারের দোকান বসে।
এ ব্যাপারে রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকার কিছু যুবক শুধু বর্জ্যের দুর্গন্ধের কথা ভেবে কাজে বাধা দিয়েছেন। এখন বিষয়টি রাসিকের মেয়রকে জানানো হবে। তবে মেয়র যদি না চান, তাহলে ওই জায়গায় এসটিএস নির্মাণ করা হবে না।
এ বিষয়ে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, বড়কুঠি এলাকায় মুনসগার্ড পার্কের সামনে বর্জ্যের একটি স্টেশন রয়েছে। কিন্তু এটি নিয়ে প্রায়ই মানুষের আপত্তি শুনতে হয়। তাই সেটি দরগাপাড়ায় সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবার ভালোর জন্যই এ কাজ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম

