ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে পিরোজপুর জেলায় ননী গোপাল মণ্ডল (৬৫) ও জাওয়াদ নামে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবার দুপুরে নাজিরপুর ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম গাছচাপায় গোপাল মণ্ডলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া এ জেলার ৭টি উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বেলা একটার দিকে গোপাল মণ্ডলের ঘরের পাশের একটি গাছ তার ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা গোপাল মণ্ডল গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পিরোজপুরে কিছু কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে কাউখালীতে ৭টি ইন্দেুরকানীতে ৩টি, ভাণ্ডারিয়া ও নাজিরপুরে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থান ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ দিয়ে বলেশ্বর নদের পানি লোকালয়ে ঢুকে গ্রাম দুটি প্লাবিত হয়েছে। ইন্দুরকানি উপজেলায় কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর গাছপালা উপড়ে গেছে। গাছ চাপায় একটি গরু মারা গেছে। ঝড়ের প্রভাবে জেলার নদ–নদীতে পানি বেড়েছে। শনিবার রাতে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়েছে। রবিবার ভোর থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসে। তবে নয়টার পর আবারও ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়।

ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম মতিউর রহমান জানান, গাছচাপায় বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙ্গে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাস্তা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।
আরো পড়ুন: বুলবুলের তাণ্ডবে এলোমেলো কাউখালী
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে কৃষিতে ৫০ লাখ, মৎস্যতে ২৫ লাখ প্রাণী সম্পদে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৫০০ শতাধিক বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে।
পিরোজপুর বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুল ইসলাম খান জানান, পিরোজপুরের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উপর বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনেও গাছ পড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব লাইন সংস্কার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কয়েকদিন সময় লাগবে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, জেলার ২২৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গবাদী পশু রাখার জন্য ও পশুর খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি উপজেলায় একটি করে এবং জেলায় আরও একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়াও জরুরি সেবার জন্য ১৬৯টি মেডিকেল টিম ও ১৯০০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ

