বাঘায় লোকালয়ে হনুমান, আতংকে এলাকাবাসী

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লোকালয়ে প্রবেশ করেছে একটি হনুমান। সে আজ সকালে এক এলাকা- তো কাল সকালে আরেক এলাকার গাছে গাছে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছে কৌতূহলী মানুষ।

বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান জানান, উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এলাকায় তিনদিন পুর্বে একটি হনুমান দেখা যায়। তারপর থেকে হনুমানটি অত্র এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে হনুমানটি কীভাবে এবং কোথা থেকে লোকালয়ে এসেছে তা কেউ বলতে পারছেন না। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কতিপয় কৌতূহলী লোকজনের উৎপাত থেকে বাঁচতে হনুমানটি উঁচু গাছে আশ্রয় নিয়েছে। হনুমানটিকে খাওয়ানোর জন্য অনেকে কলা, বিস্কুট, পাউরুটি দিচ্ছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, কোন প্রাণী অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে উপজেলা পর্যায়  কোন প্রাণী সংক্ষণ করার বিধান ও ব্যবস্থা নেই।  ফলে এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।  

বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু জানান, গাওপাড়া এলাকায় গত কয়েক দিন থেকে একটি হনুমান দেখা যাচ্ছে। এ হনুমানকে দেখতে আসা মানুষ বিভিন্ন ধরণের খাবার দিচ্ছে। সে খাবার খাচ্ছে। তবে দেখার জন্য মানুষ ভিড় করছে। এ  বিষয়ে প্রশাসনকে অবগত করা হলেও তাঁরা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা  বন-বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা  জিল্লুর রহমান বলেন, প্রাণী সংরক্ষণ এবং ধরার  কোন ব্যবস্থা আমাদের নেই। এটি ধরতে হলে ঢাকা থেকে লোকবল আনতে হবে। এরপর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে তাকে ছেড়ে দিতে হবে অথবা  দেশের কোন চিড়িয়াখানায় রাখতে হবে। তার চেয়ে ওটাকে উন্মুক্ত রাখা ভালো। এলাকার লোকজন  হনুমানটাকে  মারধর কিংবা ইট-পাটকেল না ছুড়লে সে কারও কোন ক্ষতি করবে না।

আরও পড়ুন: নবাবগঞ্জে জঙ্গল থেকে নবজাতক উদ্ধার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা শাহিন রেজা বলেন, ‘হনুমান বৃক্ষচারী শান্তি প্রিয় প্রাণী। এরা চলাফেরা, ঘুম, খাবার সংগ্রহ, খেলাধুলা ও বিশ্রামসহ সবকিছু  গাছে-গাছে সম্পন্ন করে। মূলত গাছের পাতা খেয়ে জীবনধারণ করে প্রাণীটি।’ একে বিরক্ত না করে সংরক্ষণ করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

ইত্তেফাক/নূহু