রায়গঞ্জে ভূঁইয়াগাতী সেতু জরাজীর্ণ, ধ্বসের আশংকা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৯

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উত্তর বঙ্গ মহাসড়কের ভুইগাঁতী সাবস্টেশনের অদূরে নির্মিত (১৯৬০-৬১ অর্থবছরে নির্মিত) প্রায় ষাট বছরের প্রাচীন ৭৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনও সময় সেতুটি ধ্বসে পড়তে পারে। ফলে প্রাণহানির আশংকা ছাড়াও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে মানুষ সীমাহীন দূর্ভোগে পড়বে।

এখানে নতুন সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীর দাবি খাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি নির্মাণে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে যাত্রবাহী দূর পাল্লার গাড়িসহ ভারী যানবাহন। জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। যে কারণে পুরাতন ব্রিজটির পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করায় ও দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামতের অভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানযটের কারণে ব্রিজটির ওপর কয়েক শত গাড়ি আটকে পড়ে। এতে ব্রিজটি ভারসাম্য হারিয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা, রায়গঞ্জ থানা ও হাইওয়ে পুলিশ কয়েক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টার পর যানজট মুক্ত করে ব্রিজটিকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে- সেতুর মাঝখানে উভয় স্প্যানের সংযোগস্থলে প্রায় দেড়ফুটের মত দেবে গেছে। দুপাশের বিমে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ফাটল। কংক্রিট ভেঙে কঙ্কালের মতো বেরিয়ে পড়েছে বিমের মরচে ধরা রড়ের সমষ্ঠি। সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন পারাপারকালে দুলতে থাকে সেতুটি, জানালেন পাশে কর্মরত শ্রমিকেরা। তারা অত্যন্ত আতংকের মধ্যে থেকে ঐ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশে কাজ করছেন।

অপরদিকে একই মহাসড়কে খানাখন্দক, ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে নলকা সেতু ও মহাসড়ক সংস্কারসহ ফোরলেনের চলমান কাজের কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জ অংশের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে হরিণচড়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ও হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কে রায়গঞ্জের ভুইয়াগাতি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কে দফায় দফায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে যানজটে আটকে পড়া উভয়মুখি যানবাহনগুলোর জট লাগছে ঐ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর। এতে অতিরিক্ত ওজনের চাপে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার আশংকা বহুগুণে বেড়ে গেছে বলে কর্তব্যরত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানান। 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আকতারুজ্জামান জানান, এই সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অতি সত্বর মেরামত করা না হলে যে কোনও সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর এতে উত্তর বঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান ১৫ টন ওজনের গাড়িগুলি বিকল্প সড়কে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি  বলেন, কয়েক দিন আগে বড়ো ধরণের যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সেতুটির ওপর উভয়মুখি অনেক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে সেতুটি ভেঙে পড়ার আশংকা দেখা দেয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী প্রাণপণ চেষ্টার পর যানজট মুক্ত করে সেতুটিকে রক্ষা করি। এরপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেতুটি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে, যাতে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন ব্রিজটির ওপর দাঁড়াতে না পারে।'

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিরাজগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক সেতুর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ স্বীকার করে বলেন, সেতুটির নীচে কাজ করা ঝুকিপূর্ণ। বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। ৫ দিনের মধ্যে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন, হাইওয়ে থানা কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ।১৫ টনের বেশী ওজনের ট্রাক সেতু দিয়ে চলাচল না করতে বলা হয়েছে। এই সময় উল্লেখিত ওজনের ট্রাক গুলিকে বগুড়া হতে নাটোর হয়ে বনপাড়া - হাটিকুমরুল  হয়ে অথবা শেরপুর  - কাজিপুর হয়ে সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে চলাচল করবে এই সাময়িক দূর্ভোগের জন্য আমরা দুঃখিত!'

সেতুটির মারাত্মক ঝুঁকির কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, 'সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ছে এবং যান চলাচল একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতুটি এখন ভেঙে ফেলাও ঝুঁকিপুর্ণ। বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করতে ৫/৭ দিন সময় লাগবে। বিকল্প রাস্তা নির্মাণ হলে ঝুঁকিপুর্ণ সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।'

আরও পড়ুন: মহেশপুরে শিশুসহ ৬ অনুপ্রবেশকারী আটক

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক সাক্ষী এই সেতুর পুর্বাংশের একটি স্প্যান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভেঙে ফেলা হয় ঢাকা-বগুড়ার মাঝে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য। পরে ১৯৭২ সালে ঐ অংশ পুনরায় নির্মাণ করা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু