মহেশপুরে শহীদ পরিবারের মর্যাদা চায় নাজিম উদ্দিনের পরিবার

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১৩

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত নাজিম উদ্দিনের সন্তানেরা আজও পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা। তারা অতি মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, মহেশপুর ক্যাম্প পাড়ার পরেশ মন্ডলের ছেলে নাজিম উদ্দিন ছিলেন মোজাহিদ বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন সদস্য। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। চৌগাছা উপজেলায় পাক-হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে মহেশপুর ফিরে আসেন।

এ সময় তার শিশু পুত্র ওয়াজেদ আলীর বয়স ছিল ৭ মাস। স্ত্রী রুপভান বেগম শিশু পুত্রকে নিয়ে পিতার বাড়ি যোগিহুদা গ্রামে অবস্থান করছিলেন। সংবাদ পেয়ে অসুস্থ পুত্রের জন্য ওষুধ নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যান নাজিম উদ্দিন। বিষয়টি স্থানীয় রাজাকাররা দেখে ফেলে। ঐ রাতে মহেশপুর হাসপাতালে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প থেকে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীরা যোগিহুদা গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিন ও তার শ্বশুর হাশমত আলীকে অস্ত্রসহ আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। ক্যাম্পে তাদের অমানুষিক নির্যাতন করে আটকে রেখে ৩দিন পর হাশমত আলীকে এবং ১ সপ্তাহ পর নাজিম উদ্দিনকে হত্যা করে মহেশপুরের বদ্ধভূমিতে ফেলে রাখে। স্থানীয়রা জানায়, নাজিম উদ্দিনকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে জীপগাড়ির পিছনে বেঁধে টেনে-হেঁচড়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে। 

আরও পড়ুন: তাড়াশে অযত্নে শহীদদের গণকবর

দীর্ঘ ৪৭ বছর পার হলেও নাজিম উদ্দিন পায়নি শহীদের মর্যাদা, সন্তানরা পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা। বড় ছেলে সাবেক কমিশনার তোতা মিয়া শহীদ পরিবারের মর্যাদা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিলেও আজ পর্যন্ত কোন ফল হয়নি। ছেলেরা সহায় সম্বল হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। নাজিম উদ্দিনের পরিবারকে বাংলাদেশের স্বাধীন ভূ-খণ্ডের কোনও মানুষ তাদের খোঁজ রাখে না। ২৬ মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর এলে বদ্ধভূমিতে গিয়ে চোখের জল ফেলেন তারা।

ইত্তেফাক/নূহু