ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ‘বলাৎকারের’ শিকার হয়ে মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুর রহমানের (৮) মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দোষী ব্যাক্তির ফাঁসির দাবিতে প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে।
ঐ দিন বিকেলে বিক্ষোভ চলাকালে চরভদ্রাসন আসার পথে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের গাড়ির গতিরোধ করে এলাকাবাসী। দোষীদের খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় মানববন্ধনকারীরা।পরে জেলা প্রশাসক দোষীদের আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের সর্বাত্মক সহায়তা করার আস্বাস দিয়ে শান্ত করেন তাদের।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ফরিদপুরর জেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান সড়ক সর্দার বাড়ি নামক স্থানে রাস্তার দুই ধারে নারী-পুরুষসহ প্রায় ৬ শতাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চরভদ্রাসনের বাসিন্দা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবীর পল্লব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমীন,আব্দুর রহমানের নানা শেখ আব্দুল জলিল, আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্যা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহজাহান মোল্যা, চরভদ্রাসন কলেজের সাবেক ভিপি মো: মিজানুর রহমান, লোহারটেক ভোকেশনাল কলেজের অধ্যক্ষ আরমান আলী শিকদার, রাসেলুজ্জামানসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষক ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উল্লেখ্য, গত বুধবার উপজেলার আব্দুল শিকদারেরডাঙ্গী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান ফজরের নামাজের ওজুর সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুজ্জামান প্রাথমিকভাবে মৃত আব্দুর রহমানের শরীরে যৌন হয়রানির আলামত পান। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
আরও পড়ুন: সমুদ্রের অনিরাপদ জোনে গোসলে নেমে লাশ হয়ে ফিরলো খুলনার শিক্ষার্থী
এ ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম (সদর সার্কেল) জানান, এ ঘটনায় মোহতাসিম বিল্লাহ ও আসাদুজ্জামান নামে ঔ মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছেলেটির বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আবদুস সোবাহান। আব্দুর রহমান ‘বলাৎকারের’ শিকার হয়ে মারা গেছে এমন অভিযোগ তার পরিবারের।
ইত্তেফাক/নূহু

