সদরপুরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৫৮

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী চলাকালীন দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর ৪ সংসদীয় আসন সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়ী হন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এর পর থেকে এই তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যদিও দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এমপি নিক্সন চৌধুরীর গ্রুপে রয়েছেন।

 

শনিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয় দুই গ্রুপ। উভয় গ্রুপ প্রায় একই সময়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি  উপজেলা স্টেডিয়াম গেট এলাকায় পৌঁছালে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অন্তত ১০ জন।

 

এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক সদরপুরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান জানান, ৩ দিন আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ জনসভা করে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য  নিক্সন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি থানা ও ইউএনও অফিস ঘেরাও করারও ঘোষণা দেন। শনিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ।  প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ গ্রুপের কর্মীরা মিছিল বের করে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করতে যেতে চাইলে আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কাজী জাফরউল্ল্যাহ গ্রুপের মশিউর রহমান মীম।

 

ফরিদপুরের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দায়িত্বরত চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এরা হলেন- এসআই ফরহাদ, এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই রবিউল ইলাম, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি