দ্বিগুণ দামে হাজিরা যন্ত্র কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে শিক্ষকদের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০৬

রাজশাহীতে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিগুণ দামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরার যন্ত্র কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থাপনের আগেই শিক্ষকদের হাতে রশিদ ধরিয়ে দিচ্ছে ডিজিটাল সলিউশন লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি। যন্ত্রটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকা। 

জানা গেছে, গত বছর ২৩ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সকল বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের সিস্টেম অ্যানালিস্টকে ডিজিটাল হাজিরার যন্ত্র কেনার বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে যন্ত্রটির ১৫টি ‘বর্ণনা’ দিয়ে বলা হয়, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই করে বাজার থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দমতো যন্ত্রটি ক্রয় ও স্থাপন করতে পারবেন। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্র ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো ব্যতিক্রম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগীরা জানান, এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে। প্রথমে তানোর উপজেলার ১২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই যন্ত্র স্থাপনের আগেই সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের হাতে রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রশিদে বিদ্যালয়ের নাম, ঠিকানা ও তারিখের জায়গা ফাঁকা থাকলেও দাম লিখে নিচে স্বাক্ষর রয়েছে কোম্পানির স্বত্বাধিকারী ফয়সাল ইসলামের।

এদিকে রশিদে উল্লেখিত ঠিকানা-আলুপট্টি, দৈনিক বার্তা কমপ্লেক্স, রাজশাহী উল্লেখ থাকলেও ওই ভবনে ডিজিটাল সলিউশন লিমিটেডের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, যন্ত্রটি বিক্রির জন্য বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা দেখা করে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকায় যন্ত্রটি সরবরাহ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 

আরও পড়ুন: জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

নগরীর ‘সেল কম্পিউটারে’র মালিক এস এম সালেহীন জানান, মন্ত্রণালয় থেকে যে ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে, সেটি তারা সাড়ে ৮ হাজার টাকায় সরবরাহ করতে পারবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে স্থাপন করতে দূরত্ব ভেদে আরও ২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

জানা যায়, তানোরের ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ সিদ্ধান্তের সময় তানোরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোবাইদা খানম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকরা যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি কোম্পানি থেকে নিলে তদারকি সহজ হবে। তারা বিনামূল্যে এক বছরের ইন্টারনেট সংযোগ দিতে চেয়েছে। এসব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
 
তবে তানোরের ইউএনও নাসরিন বানু বলেন, এটা গত অর্থবছরের কাজ। শিক্ষকরা যন্ত্রটি লাগাচ্ছিলেন না। পরে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এলে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে শিক্ষকরা সমন্বয় সভায় বসেন। সেখানে শিক্ষকদের সম্মতি ছিল কেন্দ্রীয়ভাবে যন্ত্রটি স্থাপন করলে ভালো হয়।’

দাম প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, তার কাছে ডিজিটাল সলিউশন দাম চেয়েছিল ১৬ হাজার টাকা। দামাদামি করলে আরও কম হওয়ার কথা। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা বলতে পারবেন। কমিটিতে না থাকায় দামের ব্যাপারে কথা বলিনি।

ইত্তেফাক/এসি