মির্জাপুরে পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের করুন অবস্থা

মির্জাপুরে পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের করুন অবস্থা
বাাইপাস বংশাই রোডে ২০০শ গজ রাস্তায় জলাবদ্ধতা। ছবি: ইত্তেফাক

একটু বৃষ্টি হলেই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার বিভিন্ন রোডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আর তাতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে বাাইপাস বংশাই রোডে ২০০শ গজ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পৌরবাসীকে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন রোডে চলাচলকারী পৌরবাসীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার পৌরসভার বেশ কয়েকটি রোডে গিয়ে দেখা গেছে চলাচলের ক্ষেত্রে পৌরবাসীর ভোগান্তির চিত্র। মির্জাপুর বাজারসহ অধিকাংশ রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন বলেছেন, ‘সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে পৌর সভার রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।’

জানা গেছে, ২০০০ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে মির্জাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভার বয়স ২০ বছর হলেও নাগরিক সুযোগ সুবিধা তেমন বাড়েনি। পৌরসভা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বলে পৌরবাসী অভিযোগ করেছেন। সমস্যার মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আজ পর্যন্ত রাস্তার পাশে ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সমস্যা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এক, তিন, চার ও পাঁচ নং ওয়ার্ডের পৌরবাসীরা।

কালিবাড়ি রোড হতে মির্জাপুর বাইপাস ও বাইপাস হতে ত্রিমোহন-বংশাই সড়কের খুব করুন দশা। মুল সড়ক হতে এই রাস্তাটি নিচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর কখনও হাটু পানি আবার কখনও কোমর পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এই রাস্তা দিয়ে উত্তরাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নহ পার্শ্ববর্তী বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার বাসিন্দারা নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন।

বংশাই রোডের ২শ গজ রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ায় চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই বলে পাথরঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী মুলফত আলী ও লতিফপুর গ্রামের মিয়াচান আলী অভিযোগ করেন। পৌরসভার কলেজ রোড, থানা রোড, বাওয়ার রোড, ইউনিয়নপাড়া রোড, বংশাই রোড, কালিবাড়ি রোড, মসজিদ রোড, কুমুদিনী হাসপাতাল রোডসহ প্রতিটি রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার ওপর পানি জমে সেই পানি দোকান-পাটে ঢুকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একই অবস্থা পৌরসভার পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, বাওয়ার কুমারজানি, প্রফেসরপাড়া, পালপাড়া, আন্ধরা, সরিষাদাইর, সাহাপাড়া ও কুতুব বাজার রাস্তা-ঘাটের বলে ঐ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বই আটকে মোটা অংকের ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ

পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন বলেন, ‘মাস্টার প্লানের মাধ্যমে মির্জাপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পয়নিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সুষম উন্নয়নের জন্য মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। চলছে রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভার্টের উন্নয়ন। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এডিবি, জাইকা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বেশ কিছু প্রকল্পের অর্থ বরাদ্ধ আসায় উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজে ব্যবস্থাসহ সকল উন্নয়নমূলক কাজ করে একটি আদর্শ ও মডেল পৌরসভা মির্জাপুরবাসীকে উপহার দিতে পারবো বলে আশা করছি।’

ইত্তেফাক/নূহু

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত