সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বই আটকে মোটা অংকের ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:০০

বানারীপাড়ায় সরকারি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থীদের বই আটকে রেখে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মোটা অংকের ১ হাজার ২৫০ টাকা করে ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওই স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন। 

তারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বই আটকে রেখে ১ হাজার ২৫০ টাকা করে ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা শিক্ষার্থীদের কোন ধরণের মানি রিসিটও দিচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের ওই ভর্তি ফি কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে তারা জানে না।

এ বিষয়ে ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী হৃদয় ইসলামের অভিভাবক দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার ছেলেকে ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার কাছে ছেলের ভর্তির জন্য ১ হাজার ২৫০ টাকা জমা দিতে বলেন। এ সময় আমি ৫শ টাকা দিয়ে ছেলেকে ভর্তি করার পাশাপাশি পাঠ্যবই দেওয়ার দাবি জানাই। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে পরবর্তীতে পুরো টাকা নিয়ে অফিস কক্ষে এসে ছেলের বই নিতে বলে।’

একইভাবে ওই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিমের পিতা ভ্যানচালক সুমন হাওলাদার বলেন, ‘স্কুল খোলার শুরুতেই আমার মেয়ে মিমকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করার জন্য সরকারি বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন পাইলট স্কুলে নিয়ে যাই। এ সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার কাছে মেয়ের ভর্তির জন্য ১ হাজার ২৫০ টাকা দাবি করে। আমি ওই টাকা দিতে না পারার কারণে ওইদিন আমার মেয়েকে ভর্তি করাতে পারিনি এবং পাঠ্যবইও পাইনি।’

 এ বিষয়টি অস্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদার বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী স্কুলে ভর্তিই হয়নি, তাকে কিভাবে বই দিব। তাছাড়া আমরা স্কুলে ভর্তি হওয়া কোন শিক্ষার্থীর পাঠ্যবই আটকে রাখিনি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৬ টাকা, ষষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি ফি ১০ টাকা ও সপ্তম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি ফি ১২ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণীতে ভর্তি ফি ১৫ টাকা। নৈশ প্রহরী ২০ টাকা, আইডি কার্ড, মাসিক বেতন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, মসজিদ, মিলাদ, সফটওয়ার কেনা, সরস্বতী পূজার চাঁদাসহ একবারে ১২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: মেহেরপুরের ভাষা সৈনিক নজির হোসেন বিশ্বাস আর নেই

এ ব্যাপারে কোনোকিছুই জানা নেই বলে দাবি করেন, সরকারি বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন পাইলট স্কুলের ব্যাবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ। তিনি বলেন, ‘স্কুলের কোনো শিক্ষক যদি সরকারি নিয়ম বহির্ভূত কাজ করে থাকেন তাহলে তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু