ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
৩৩ °সে

প্রেমিকার বাড়ির উঠানে ১২ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হয়েছিল যুবককে

প্রেমিকার বাড়ির উঠানে ১২ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হয়েছিল যুবককে
শ্রীপুরে নিখোঁজের একমাস পরে যুবকের মরদেহ মিলল প্রেমিকার বাড়ির উঠানে। ছবি: ইত্তেফাক

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজের এক মাস পর গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলাকেটে খুনের পর প্রেমিকার বাড়ির উঠানে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছিল ওই যুবককে।

নিহত ওই যুবকের নাম পিকুল বিশ্বাস (৩৫)। তিনি উপজেলার চৌগাছি গ্রামের উকিল বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহেশপুর গ্রামের কাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে মোশারফ হোসেন প্রবাসে থাকায় স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার (২৮) সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন পিকুল। বছরখানেক আগে ওই প্রবাসী দেশে ফিরে এলেও তার স্ত্রী পরকীয়া চালিয়ে যেতে থাকেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক করেও ফল হয়নি। পরে তাদের বিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছায়। একপর্যায়ে স্বামী পিকুলকে তার সামনে হাজির করার জন্য স্ত্রীকে শর্ত দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ রাতে স্বামী বাড়িতে নেই বলে সুকৌশলে রাজিয়া প্রেমিক পিকুলকে তার বাড়িতে আসতে বলে। বাড়িতে আসার পর প্রেমিকা রাজিয়া স্বামীর কথা মতো পিকুলকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পিকুল ঘুমিয়ে পড়লে রাজিয়া তার স্বামীকে ডেকে এনে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উঠানের টিউবওয়েলের পাশে খোঁড়া ১২ ফুট গভীর গর্তে বিছানাপত্র ও তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটসহ পিকুলের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

এ দিকে গত ২ মার্চ পিকুল তার সিঙ্গাপুরগামী এক আত্মীয়কে বিমানে তুলে দিতে ঢাকায় যায়। ৩ মার্চ দুপুর পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ ছিল। এরপর থেকে পরিবার তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পিকুলের ভায়রা মামুনুর রশীদ গত ৭ মার্চ গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় জিডি করেন।

আরও পড়ুন: ভূঞাপুরের গার্মেটকর্মীরা ঝুঁকি নিয়েই ঢাকামুখী

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রাজিয়া ও তার স্বামীকে মোশারফকে আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পিকুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। স্বীকারোক্তি মোতাবেক মাগুরা পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াছিন কবীরের উপস্থিতিতে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে ১২ ফুট মাটির নিচ থেকে পিকুলের মরদেহ উত্তোলন করেন। রাতেই ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মাগুরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মাগুরা পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে । এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০২ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন