ভ্যান ছিনতাই করতেই খুন করা হয়েছিল জিয়াউরকে

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ২০:৫১

নীলফামারীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত ভ্যান চালক জিয়াউর রহমানকে (৪০) হত্যায় জড়িত ফজলে রাব্বি (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছেন থানা পুলিশ। আটকের পর শুক্রবার (১৯ জুন) খুনের দায় স্বীকার করে নীলফামারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই যুবক জানান, ভ্যান ছিনতাই করতেই খুন করা হয়েছিল জিয়াউরকে। 

শনিবার দুপুরে নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান। 

নিহত জিয়াউর রহমান জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ভরতপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে এবং আটক ফজলে রাব্বি জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার রূপালী কেসবা মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত মাজু মিয়ার ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, জিয়াউর রহমানের ব্যাটারি চালিত ভ্যানটি ছিনতাই করতে রাব্বিসহ পাঁচজন পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা শহরের আনন্দবাবুর পুল এলাকা থেকে তিনশ টাকায় তারা ভ্যানটি ভাড়া করে। তারা ওই ভ্যানে করে রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া আসতেই তাকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে ভ্যান নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় জিয়াউরের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে তারা ভ্যান রেখে পালিয়ে যায়। 

পরে পুলিশে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতেই আশপাশের থানাসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযানে নামে। এ অবস্থায় চারজন পালাতে সক্ষম হলেও ফজলে রাব্বি জলঢাকা উপজেলার পাঠানপাড়া বাজারে পুলিশের হাতে আটক হন।

আরও পড়ুন: কবিরাজী চিকিৎসার নামে তিন শিশুকে লাগাতার ধর্ষণ

পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও অন্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শাহজাহান আলী বাদি হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতেই নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। রাতে লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি